|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

সিরিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানে ইরানের হামলা চালানোর নেপথ্য কারণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম
৪ পঠিত
00:00
00:00
সম্প্রতি পরপর তিনদেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। তিনটিই আদর্শিক দিক থেকে ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র। দেশ তিনটি হলো,সিরিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান। কেন হামলা চালালো এ নিয়ে ইরানি সাংবাদিক কাসরা নাজি বিবিসিতে শুক্রবার ( ১৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে কারণ অনুসন্ধান করেছেন। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে ইসলামপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে অনেকদিন থেকে। এই অসন্তোষের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। ইরানে ইসলামপন্থীদের অসন্তোষ ১. সপ্তাহ দুয়েক আগে ইরানের কেরমান শহরে বোমা হামলা হয়। এতে প্রাণ হারান অন্তত ৮৪ জন। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। প্রাণঘাতী এই হামলার পরও আইএসের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি ইরান। এটা অসন্তুষ্ট করেছে দেশটির ইসলামপন্থীদের। ২. ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ আর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন ও সামরিক সহায়তা দেয় ইরান- এমন অভিযোগ পশ্চিমাদের। কিন্তু ইরানের ইসলামপন্থীরা দেখছে ইসরায়েল–ফিলিস্তিনের যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া থেকে সচেতনভাবে ইরান দুরে থাকছে আবার পশ্চিমা অভিযোগের ব্যাপারেও কিছু বলছে না। এ কারণে ইরানের ভেতর বাড়ছিল অসন্তোষ। ৩. গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে সিরিয়ায় রাজধানী দামেস্কের বাইরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সাইদ রাজি মৌসাভি নিহত হোন। সিরিয়া ও ইরানের মধ্যকার সামরিক জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন মৌসাভি। আইআরজিসি’র এক অভিজ্ঞ সামরিক উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি। রেভল্যুশনারি গার্ডের এলিট বাহিনী কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির সহচরদের একজন ছিলেন সাইদ রাজি। ২০২০ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় সোলাইমানি নিহত হয়েছিলেন। সাইদ রাজি নিহত হওয়ার পর তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি সিরিয়া। এটিও ইরানে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাড়ায়। ৪. ইরাকে কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের মুল ঘাঁটি ছিল। ইরানের ধারণা এই ঘাটি নির্মাণের সময় ইরাক সহায়তা করেছে। বাধা তো দেয়ইনি। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের শুরুতেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তারা ইরাকের ‘মোসাদের স্থাপনায়’ হামলা চালিয়েছে। আর সিরিয়ায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কমান্ডারকে হত্যার পরও কিছুই করতে না পারায় ইরান হামলা চালিয়ে একটা হুমকি দেয়। ৫. পাকিস্তানে ইরান বিরোধী ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ জয়েশ আল–আদলির ঘাঁটি রয়েছে। একবারে ইরান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। এ ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে বলে জানিয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেনি ইসলামাবাদ। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কারের পাশাপাশি দ্রুত ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, এ তিন হামলার ঘটনায় ইরানে ইসলামপন্থীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ কমেছে। ধারণা করা হয়, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে পরামর্শের পর তিন মিত্রদেশে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী। এমনকি হামলার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ানের পরামর্শ নেওয়া হয়নি, এমনও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই তিনদেশে ইরান হামলা চালিয়ে নিজেদেরই ক্ষতি করেছে।
বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →