মানচিত্রে কলম চালালো ট্রাম্প,যুক্ত কানাডা-গ্রিনল্যান্ড-ভেনেজুয়েলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনে, বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন আগ্রহ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় এই পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ওভাল অফিসে বসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন ট্রাম্প। তাঁর পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি মানচিত্রে কানাডা ও ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরেকটি ছবিতে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত। সেখানে থাকা একটি মাইলফলকে লেখা— “গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন অঞ্চল, প্রতিষ্ঠিত ২০২৬।”
ছবিগুলো প্রকাশের পর অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে দেখানো নিছক প্রতীকী নয়, বরং এর পেছনে ভৌগোলিক সম্প্রসারণের ইঙ্গিত রয়েছে।
রেড্ডিটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মন্তব্যকারীরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পোস্ট তার ভূখণ্ড দখলের মানসিকতাই প্রকাশ করছে। বিশেষ করে তিনি যখন বারবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করছেন, তখন এ ধরনের ছবি সেই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করছে।
কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এ ধরনের পোস্ট ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে সামরিক বা কূটনৈতিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমা বাড়ানোর ধারণাকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।
এরই মধ্যে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা নিয়ে আলোচিত পদক্ষেপ নিয়েছেন। হঠাৎ অভিযান চালিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা ও খনিজ সম্পদের ওপর মার্কিন কর্তৃত্বের ঘোষণা দেন তিনি। আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেই ট্রাম্প বলেন, আপাতত ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই চলবে।
পরে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ৮ জানুয়ারি জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ প্রভাব’ রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ওয়াশিংটন থেকেই নির্ধারিত হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম রাজ্য’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না। তবুও ট্রাম্প প্রায়ই কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘কানাডার গভর্নর’ বলে কটাক্ষ করে থাকেন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ট্রাম্পের আগ্রহ ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে। মঙ্গলবার নেটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে দাভোসে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের কথাও জানান তিনি।
এই উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া ডেনমার্ক ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরে সম্মত না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ এবং জুন থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিনিময়ে এখন ডেনমার্কের উচিত গ্রিনল্যান্ড ‘ফিরিয়ে দেওয়া’।