ধামরাইয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ধামরাইয়ে পরিচিতের বাড়িতে বেড়াতে এসে এক নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন দাবিতে সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে ওই নারীকে একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করে।
তবে ঘটনাস্থলে সরেজমিন অনুসন্ধানে এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যিনি নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করছেন, তিনি জানিয়েছেন—ঘটনাটি ছিল লুটপাটের, ধর্ষণ বা গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি রাতে ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন এলাকায় শান্তি মনি দাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ১৯ জানুয়ারি কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে ওই খবরের সঙ্গে বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে।
কী বলছেন স্থানীয়রা
ঘটনাস্থলটি সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া সড়ক থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার ভেতরে অবস্থিত একটি টিনের এককক্ষের ঘর। আশপাশে কয়েকটি বসতবাড়ি থাকলেও ঘটনার সময় কেউ ধর্ষণ বা কাউকে বেঁধে রাখার কোনো দৃশ্য দেখেননি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
রাতের দিকে মারধরের শব্দ শুনে প্রথমে ঘটনাস্থলে যান পাশের বাড়ির এক নারী ও তাঁর স্বামী। তাঁরা জানান, সেখানে গিয়ে শুধু স্বামী-স্ত্রীকে ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ওই নারী তখন গহনা, টাকা ও মোবাইল ফোন খোয়া যাওয়ার কথা জানান। তবে কাউকে বাঁধা বা গুরুতর সহিংসতার কোনো চিহ্ন চোখে পড়েনি।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাও জানান, তারা লুটপাটের কথাই শুনেছেন। কারও কাছ থেকে ধর্ষণ বা দলবদ্ধ হামলার বর্ণনা শোনা যায়নি।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করা আব্দুর রাজ্জাক জানান, রাতের দিকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাঁর কাছ থেকে টাকা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নারীর কাছ থেকে গহনা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তিনি বলেন, তাঁকে মারধর করা হয়েছে, তবে ধর্ষণ বা গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তিনি ওই নারীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে রাজি হননি। পরে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
সঙ্গের নারী নিয়ে ধোঁয়াশা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাকের কর্মস্থল ও গ্রামের বাড়ির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাঁর প্রকৃত স্ত্রী ধামরাইয়ে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তাঁর স্ত্রী জানান, তিনি ওই দিন রামরাবন এলাকায় যাননি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে আব্দুর রাজ্জাক কর্মস্থলেও অনুপস্থিত রয়েছেন।
পুলিশের অবস্থান
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এখন পর্যন্ত ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।
পুলিশ আরও জানায়, সংবাদমাধ্যমে যাঁর নাম উদ্ধৃত করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেই নামের কোনো কর্মকর্তা থানায় নেই। একই নামের এক কর্মকর্তা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান, স্থানীয়দের বক্তব্য ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধামরাইয়ের আলোচিত ঘটনাটি মূলত একটি লুটপাটের ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। দলবদ্ধ ধর্ষণ ও গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন