|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

ভারতীয় উৎসে বাংলাদেশবিরোধী অপতথ্য বাড়ছে, উদ্বেগ রিউমর স্ক্যানারের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
১৮ পঠিত
00:00
00:00
ভারতীয় উৎসে বাংলাদেশবিরোধী অপতথ্য বাড়ছে, উদ্বেগ রিউমর স্ক্যানারের
ছবি: সংগ্রহীত

বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় উৎস থেকে ছড়ানো অপতথ্যের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫ সালে ভারতের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কিত অন্তত ১৫৫টি অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার।

যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ শতাংশ বেশি।

রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। গত বছর ৩৮টি ঘটনায় ৭৩টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ১৪০টি ভুল ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেই বাংলাদেশকে নিয়ে সর্বোচ্চ ৩৪টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। পুরো বছরজুড়ে গড়ে প্রতি মাসে অন্তত ১৩টি করে অপতথ্যের প্রচার শনাক্ত করা হয়েছে।

অপতথ্য ছড়ানোর প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে এসেছে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (সাবেক টুইটার)। শনাক্ত হওয়া ১৫৫টি অপতথ্যের মধ্যে ১২৬টিই এক্সে প্রচারিত হয়েছে, যা মোট অপতথ্যের প্রায় ৮১ শতাংশ। এছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস ও টিকটকেও অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া অপতথ্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তিকর তথ্য। মোট ১৫৫টির মধ্যে ৯১টিই সাম্প্রদায়িক প্রকৃতির, যা প্রায় ৫৮ শতাংশ। এসব অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা গেছে।

রিউমর স্ক্যানারের তথ্যে বলা হয়, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি নিউজ, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, নিউজ১৮, টিভি নাইন, এবিপি, মিরর নাউসহ একাধিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচারের দায়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘আজতক বাংলা’। ৩২টি ঘটনার মধ্যে ১০টিতে চ্যানেলটি ভুল তথ্য প্রচার করেছে।

গত বছরের ৯ জুলাই ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৭টি ভারতীয় গণমাধ্যমে তাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে দাবি করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল।

রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অপতথ্য ছড়ানোর সাধারণ কৌশলের মধ্যে রয়েছে—মুসলিম ভুক্তভোগীকে হিন্দু পরিচয়ে তুলে ধরা, পুরোনো ঘটনাকে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপন, স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে বাস্তব ঘটনা দাবি করা এবং ভারতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে প্রচার করা।

ভারতীয় সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ী বলেন, এসব অপতথ্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ তৈরি করছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও তীব্র আকার নিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব নন্দী মনে করেন, বাংলাদেশের ভেতরের সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্বল প্রতিক্রিয়া ভারতীয় মিডিয়ার অতিরঞ্জিত ও বিকৃত বয়ানের পেছনে ভূমিকা রাখছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থান না নিলে ভবিষ্যতেও এই অপতথ্য পুনরুৎপাদিত হতে থাকবে।

রিউমর স্ক্যানারের মতে, এই অপতথ্য এখন আর কেবল সাংবাদিকতার ভুল নয়; বরং এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ঘিরে জনমত ও রাজনৈতিক বয়ান তৈরির একটি কৌশলগত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →