|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তখন তাদের মন্ত্রীরা পদ ছাড়েননি কেন?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম
৭ পঠিত
00:00
00:00
বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তখন তাদের মন্ত্রীরা পদ ছাড়েননি কেন?
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ছবি: সংগ্রহীত

দীর্ঘ ২২ বছর পর ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এক রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তিনি বলেন, যে দলটি বিএনপিকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে প্রচার চালাচ্ছে, তাদেরই দুই শীর্ষ নেতা বিএনপি সরকারের সময় মন্ত্রী ছিলেন। তাহলে বিএনপি যদি সত্যিই দুর্নীতিতে জড়িত থাকত, তারা তখন কেন পদত্যাগ করেননি—এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

২০০৪ সালের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভার পর প্রায় ২২ বছর পর এই মাঠেই আবার বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর দেশে ফিরে টানা নির্বাচনী জনসভা করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছেন তিনি। বক্তব্যে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল পলাতক স্বৈরাচারের ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তারা বিএনপিকে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন বলছে। অথচ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাদেরই দুজন নেতা মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং পুরো মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, তারা পদত্যাগ করেননি কারণ তারা জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও দেখায়, তার শাসনামলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে দুর্নীতির ভয়াবহ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছিল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার ও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ফজরের নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। শুধু ভোট দিয়ে ফিরে এলে চলবে না, ভোট গণনা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ময়মনসিংহ ও জামালপুর অঞ্চলে মাছ চাষকে শিল্পখাতে রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণাও দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে মাছের পোনা চাষের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাত সম্প্রসারণ করে বিদেশে পোনা রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে এবং দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা এই দলেরই রয়েছে। দেশের বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মঞ্চে ওঠার পর তারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান স্থানীয় নেতারা।

তারেক রহমানের বক্তব্যের আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা মঞ্চে বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে বিজয়ের আহ্বান জানান। এ সময় ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’ স্লোগানও দেওয়া হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-৫ আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু। দলীয় সূত্র জানায়, জনসভায় আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষের উপস্থিতি ছিল। নেতাদের মতে, এই জনসভা প্রমাণ করেছে ময়মনসিংহ বিএনপির শক্ত ঘাঁটি এবং আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণরায়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →