তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের পর জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকার রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের আইআরজিসি পরপর দুই দিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করার জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন নাগরিক হতাহত হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে প্রতিবারই তাদের তেলবাহী জাহাজ হারাতে হবে।
এরপর ইরান জর্ডানের আল-আজরাকের কাছে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে আইআরজিসি জানিয়েছে। ইরান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করলেও জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টির মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দিয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাটি কার্যকর হয়নি এবং সব মার্কিন সেনা নিরাপদে রয়েছেন।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা ১০টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার কারণে এরই মধ্যে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকেও ইরান হুমকি দিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে এর জন্য কে দায়ী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বুধবার লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
সৌদিতে হুথিদের হামলা
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
হুথিরা জানায়, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের একটি বিমানঘাঁটি এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির আবহা, নাজরান ও জাজান শহরের স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষও কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সংঘাতে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর আবার উত্তেজনা বাড়ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জাহাজ চলাচল বাড়ানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে অবরোধ জোরদার করছে ওয়াশিংটন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত এখন জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন