জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে তারেক রহমান
নিউজ ডেস্ক
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
সোমবার সকাল ৬টা ৭ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেবেন। ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী একটি ছোট আকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
নিউইয়র্কে কর্মসূচি
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার পর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী আয়োজনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।
সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলা নিয়ে একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ওই দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে।
যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে
পররাষ্ট্র সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও বক্তব্যে উঠে আসার কথা রয়েছে।
জলবায়ু বিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে বলে জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা ও স্বাস্থ্য নিয়ে সাইড ইভেন্ট
সফরকালে বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানানোর কথা রয়েছে।
পরদিন মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকের মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সফরটির মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।