ঢাকার সাবেক এসপিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
নিউজ ডেস্ক
দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
বরখাস্ত হওয়া অন্য চার কর্মকর্তা হলেন—সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল, সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার রাজীব দাস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় কর্মকর্তাই দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজে যোগ না দেওয়ায় এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।
আসাদুজ্জামান
মো. আসাদুজ্জামানকে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট পুলিশ একাডেমি, সারদায় সংযুক্ত করা হয়। তিনি ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেখানে যোগ দেন। যোগ দেওয়ার দিনই ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনের ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছাড়েন। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি আর দায়িত্বে ফেরেননি।
ছানোয়ার হোসেন
এটিইউতে দায়িত্ব পালনের সময় মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর সেখানে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরিফুর রহমান মণ্ডল
সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডলকে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হলে তিনি ৯ সেপ্টেম্বর সেখানে যোগ দেন। তবে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।
রাজীব দাস
সুপার নিউমারারি পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া রাজীব দাসকে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর সচিবালয় থেকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে ১২ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ২০ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি থাইল্যান্ড যান।
ছুটি শেষে ২ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর কাজে ফেরেননি।
জায়েদুল আলম
মোহাম্মদ জায়েদুল আলমকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
পলাশ রঞ্জন দে
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে সিলেট এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও সরকারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধিমালার ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন