সালাহউদ্দিনকে রেখে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়: নাহিদ
নিউজ ডেস্ক
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার দুপুরে ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি অনেক সময় বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। কখনো বক্তব্যকে ‘পল্টনের বক্তব্য’ বা ‘রাজপথের বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদের ভাষ্য, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে তা সম্ভব নয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে নৈরাজ্য, দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর থেকে এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তার দাবি, সেখানে ভাঙচুরের মাধ্যমে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসন তা প্রতিরোধ করতে পারেনি।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ওই ভাষণে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন যথেষ্টভাবে ঘটেনি। তারেক রহমানের বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয় উঠে এলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদের অভিযোগ, দেশে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয় দেশের অভ্যন্তরে আলোচনার বিষয় হলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটে পড়লেও এ সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে হুঁশিয়ারি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলে এনসিপি তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে কিংবা নির্বাচনকে প্রভাবিত বা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হলে জাতীয় নির্বাচনের মতো নীরব থাকবে না এনসিপি। দলটি সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে এনসিপির অবস্থান
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংশোধনের নামে প্রকৃত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এনসিপি শুধু রাষ্ট্রের বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং মৌলিক সংস্কার চায়। অতীতে ১৭ বার সংবিধান সংশোধন হলেও সেগুলোর মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ কারণে দ্রুত ‘এই নাটক’ বন্ধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের দাবি জানান নাহিদ।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অনেক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন করছেন। এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তার দাবি, বাদ পড়া অধিকাংশ প্রার্থীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অনেক সহযোদ্ধাকেও এ প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যায়ভাবে কোনো চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হলে এনসিপি তাদের পাশে থাকবে বলেও জানান দলের আহ্বায়ক।