|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন: পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
২৮ পঠিত
00:00
00:00
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন: পেন্টাগন
২৩ বছর পর ইরাক থেকে প্রত্যাহার সম্পন্ন-ছবি: আল জাজিরা

ইরাক থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস/আইএসআইএল)বিরোধী অভিযানে নিয়োজিত সর্বশেষ মার্কিন সেনাদলও প্রত্যাহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যরা নিজেদের সরঞ্জামসহ সুশৃঙ্খলভাবে দেশটি ছেড়েছেন।

ইরাক সরকার দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সেনা প্রত্যাহারকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। প্রায় দুই দশক ধরে যুদ্ধ ও বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের পর মার্কিন সেনাদের চলে যাওয়াকে নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছে বাগদাদ।

২০০৩ সালে তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০১১ সালে সেনা প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থানের পর আবার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।

২০১৭ সালে আইএসের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড হারানোর পর ইরাকে থাকা বিদেশি সেনাদের ভূমিকা মূলত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক হয়ে যায়। গত বছরের শেষ দিকে অবশিষ্ট কয়েকশ বিদেশি সেনাকে এরবিলে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল।

পারনেল বলেন, ইরাকে আইএসকে সংগঠিত সামরিক শক্তি হিসেবে পরাজিত করার ১২ বছরের অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটল এই প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে। এখন যুদ্ধকালীন জোটের পরিবর্তে ইরাকের নেতৃত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে যাওয়া হচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় থাকবে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের অবশিষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব এখন দেশটির সরকারের ওপর থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে আইএসের অবশিষ্ট সদস্য এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়টিও রয়েছে।

ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী, কুর্দি পেশমার্গা এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের অন্যান্য বাহিনী আইএসের অবশিষ্ট সদস্যদের দমনে নেতৃত্ব দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি অংশীদারদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

পরবর্তী সময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ২০২৪ সালে চূড়ান্ত প্রত্যাহার পরিকল্পনায় সম্মত হন।

বুধবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনা প্রত্যাহারের প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরাকে থাকার বা চলে যাওয়ার সুযোগ ছিল এবং তিনি মনে করেছেন, এবার আমেরিকার দেশে ফেরার সময় হয়েছে।

তিনি এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের জন্য বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে ট্রাম্প আইএসবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’কে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করলেও সেটি সঠিক নয়। ২০০৩ সালের অভিযানটির নাম ছিল ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’। সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১০ সালে শেষ হয়। ২০১৪ সালে আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা আবার ইরাকে মোতায়েন হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি থাকছে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, আইএসবিরোধী অভিযানের দায়িত্বে থাকা টাস্কফোর্সকে জর্ডানে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়ায় এখনও কয়েকশ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, সেনা প্রত্যাহারের আগে এরবিল ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য জোটভুক্ত দেশের প্রায় ১ হাজার ৫০০ সেনা ছিল।

নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতি

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন একটি পর্যায় শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশপাশের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাব থাকলেও দেশটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি সেনা প্রত্যাহারকে দেশের জন্য নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রচলিত অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে নেওয়ার কথা বলেছেন এবং বিদেশি ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরাকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সময়ে ইরাক সরকার ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গোষ্ঠীও রয়েছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিকে নিজেদের অস্ত্র রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়ে আসছে।

তবে কুর্দি কর্মকর্তাদের একটি অংশ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে কুর্দিস্তান অঞ্চল ইরানের হামলা এবং আইএসের সম্ভাব্য পুনরুত্থানের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ইরাকের সরকারি বাহিনীগুলো বলছে, মার্কিন সেনাদের স্থায়ী উপস্থিতি ছাড়াই আইএসসহ অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

আইএস ইরাক ও সিরিয়ায় কোনো ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে না রাখলেও সংগঠনটির সক্রিয় সেল এখনও রয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এসব সেল নতুন করে হামলা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে বলে ইরাকি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →