|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

কোনো পরিস্থিতিতেই ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেবে না সোমালিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
২২ পঠিত
00:00
00:00
কোনো পরিস্থিতিতেই ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেবে না সোমালিয়া
সোমালিয়ায় কোনো পরিস্থিতিতেই ইসরায়েলি উপস্থিতি নয়: প্রেসিডেন্ট/ ছবি: আল জাজিরা

সোমালিয়া কোনো পরিস্থিতিতেই দেশে ইসরায়েলের উপস্থিতি মেনে নেবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জড়িয়ে পড়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল বারবেরায় একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে এবং শহরটির বিমানবন্দরও ব্যবহার করতে চায়। তার দাবি, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের আরও কাছে পৌঁছানো।

বারবেরা সোমালিল্যান্ডের উপকূলীয় শহর। সোমালিল্যান্ড উত্তর-পশ্চিম সোমালিয়ার একটি স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র, যেটিকে গত বছর ইসরায়েল স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে মোগাদিশু এখনো অঞ্চলটিকে সোমালিয়ার অংশ বলে দাবি করে।

এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত বারবেরা ইয়েমেনের বিপরীতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে। ইরানপন্থী হুতিরা এর আগে ওই এলাকায় ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করেছিল।

মোহামুদ বলেন, ‘ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণে আমাদের দেশের জন্য যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, আমরা তা মোকাবিলা করব।’

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের পরিকল্পনা ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বলতে এমন বিভিন্ন প্রস্তাবকে বোঝায়, যেগুলোর অনেকগুলোই বাইবেলের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং বর্তমান সীমার বাইরের ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। কিছু সংস্করণে নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

ইসরায়েল এটিকে সরকারি নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এই ধারণার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত মনে করেন। তার এ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছিল আরব দেশগুলো।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে এমন একটি ‘অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না।

তিনি গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলের সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন।

মোহামুদের মতে, ইসরায়েল ছাড়া আর কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সোমালিল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে ইসরায়েলের উপস্থিতির সম্পূর্ণ বিরোধী।

১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে সোমালিল্যান্ড। এরপর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অঞ্চলটি নিজস্ব ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে ইসরায়েলের স্বীকৃতির আগে জাতিসংঘের কোনো সদস্যরাষ্ট্রই সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট আল জাজিরাকে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তার দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার। তিনি আরও বলেন, আল-শাবাব বড় শহরগুলোতে কোনো উপস্থিতি নেই। ফলে সোমালিয়ায় গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

আল-শাবাব একটি সোমালি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসে এবং ২০১২ সালে আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন ধরে তারা সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। দক্ষিণ ও মধ্য সোমালিয়ার কিছু এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং মোগাদিশু ও প্রতিবেশী কেনিয়ায় তারা প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকা প্রসঙ্গে মোহামুদ বলেন, প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সোমালিয়ার সম্পর্ক ভালো। অর্থনৈতিক স্বার্থে যৌথ চুক্তির মাধ্যমে সোমালিয়ার বন্দর ব্যবহার করে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে মোগাদিশুর আপত্তি নেই।

১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত দেশ। বাণিজ্যের জন্য দেশটি মূলত জিবুতির বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়ে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে ইথিওপিয়া। সোমালিয়া ওই চুক্তিকে তার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছিল। পরে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া উত্তেজনা কমাতে সম্মত হয়।

হুতিদের ‘অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী’ বললেন মোহামুদ

ইয়েমেনের হুতিদেরও ‘অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলা’ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার অভিযোগ করেছেন মোহামুদ।

গত মাসে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল দখল করে নেওয়া হুতিরা তাদের আকস্মিক সামরিক অভিযানের সাফল্য আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে—এমন সময় মোহামুদের এই মন্তব্য এলো।

এখন পর্যন্ত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী সম্মুখসারিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারা হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবিও করেছে।

হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও হামলা জোরদার করেছে। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা ‘বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস’ বেছে নিয়েছে এবং ইয়েমেনের জনগণ ও পুরো অঞ্চকেই হুমকির মুখে ফেলছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →