|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

শোকের ভারে বিপর্যস্ত, গাজার বাস্তুচ্যুতরা ফিরতে অপেক্ষায় বিদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
৩৩ পঠিত
00:00
00:00
শোকের ভারে বিপর্যস্ত, গাজার বাস্তুচ্যুতরা ফিরতে অপেক্ষায় বিদেশে
গাজা সিটিতে যুদ্ধের সময় ধ্বংস হওয়া আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন এক ফিলিস্তিনি তরুণ। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বড় পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হওয়ার পর গাজা থেকে কায়রো পালিয়ে গিয়েছিলেন ওমর আল-হাসায়না। তিন বছর পরও তিনি সেখানে অপেক্ষা করছেন—তার বিধ্বস্ত নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন শুরু হওয়ার আশায়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজা ছেড়ে যাওয়া এবং এখনো বিদেশে আটকে থাকা এক লাখের বেশি গাজাবাসীর একজন হাসায়না। তারা এখনো স্বজনদের মৃত্যু এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর ও মহল্লার শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন।

হাসায়না বলেন, ‘আমি গাজা ছেড়ে মিসরে এসেছি, কিনানা ভূমি (মিসরকে বোঝাতে) এসেছি। কিন্তু একই সময়ে এটিও ভুলে যাওয়া হবে না, প্রিয় ভাই, এটি ভুলে যাওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি সুযোগের অপেক্ষায় আছি। আমি সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় আছি, যখন গাজা স্থিতিশীল হবে, যাতে আমি আমার দেশে ফিরে যেতে পারি এবং এই দেশের একজন উৎপাদনশীল সদস্য ও ইতিবাচক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারি।’

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় এক বছর হতে চলেছে। ওই যুদ্ধবিরতির পর একটি কারিগরি সরকারের অধীনে পুনর্গঠন শুরু এবং এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল, যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির খুব সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের বসবাস করা বেশির ভাগ এলাকা হামাস নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে অধিকাংশ মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ নেই এবং শিগগির পুনর্গঠনেরও কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর ইসরায়েলি হামলায় গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের একটি গুচ্ছ ধ্বংস হয়ে যায়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া হাসায়নার বর্ধিত পরিবারের ৩০৮ সদস্য নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী, তাদের চার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে এবং চার নাতি-নাতনি। তাদের মধ্যে কয়েক মাস বয়সী এক শিশুও ছিল।

হাসায়নার বড় ছেলে মোহাম্মদও তার চার সন্তানকে নিয়ে কায়রোতে আছেন। নিহত এক ছেলের বিধবা স্ত্রীও তার মেয়েকে নিয়ে সেখানে আছেন। হাসায়নার কয়েকজন ভাইও মিসরের রাজধানীতে রয়েছেন।

এক মেয়েকে তার স্বামী ও ছয় সন্তানসহ চিকিৎসার জন্য তুরস্কে নিয়ে যাওয়া হয়। আরেক মেয়ে গাজাতেই তার পাঁচ সন্তানকে নিয়ে রয়েছেন। ওই হামলায় তার স্বামী নিহত হন।

২২ নভেম্বরের ওই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি। তারা বলেছে, গাজায় তাদের হামলার লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়।

প্রায় ৭ হাজার ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরেছেন

আগস্টে কায়রো থেকে ভিডিওতে হাসায়না দেখেন, তার স্বজনরা ১১২ জন পরিবারের সদস্যকে দাফন করছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী, ছেলে ও নাতি-নাতনিরা। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে আরও কয়েক ডজন এখনো নিখোঁজ।

গাজায় অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিক্রির একটি ব্যবসা ছিল হাসায়নার। যুদ্ধের পর তার কিছু পণ্য টিকে যায়। কায়রোতে থাকার খরচ মেটাতে তিনি মাঝেমধ্যে সেগুলোর কিছু বিক্রি করেন। সেখানে তিনি আবার বিয়েও করেছেন।

গাজা থেকে যারা বেরিয়ে গেছেন, তাদের সবাইকে যাওয়ার আগে ইসরায়েল ও মিসর—দুই দেশের পক্ষ থেকেই যাচাই করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের অনেকের জন্য গাজায় ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক গাজার পুরো জনগোষ্ঠীকে চলে যেতে উৎসাহিত করা এবং যারা চলে গেছে তাদের ফিরে আসা ঠেকানোর নীতির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে প্রায় ৭ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে গাজায় ফিরে গেছেন। হাসায়না বিশ্বাস করেন, গাজা থেকে ব্যাপকভাবে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ঠেকাবে মিসর।

তবে গাজার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া মানুষের ব্যাপকভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।

হাসায়না বলেন, ‘যদি গাজা আবার ফিরে আসে। যদি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে একটি সামগ্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পুনর্গঠন শুরু হয়, তাহলে আমি কেন দেরি করব?’ 
মেডিকেয়ারে থাকা ২ কোটি প্রবীণকে ৯০ ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ২ কোটির বেশি প্রবীণ আমেরিকানকে এককালীন ৯০ ডলার করে দেবে মার্কিন সরকার। মাসিক স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে এই অর্থ দেওয়া হবে।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, এই অর্থ দেওয়া হবে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। তার দাবি, মেডিকেয়ারের ‘ফি-ফর-সার্ভিস’ কর্মসূচির উন্নয়নে কংগ্রেস এই তহবিলে ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের জন্য রিপাবলিকান নেতার ধারাবাহিক আর্থিক প্রতিশ্রুতির সর্বশেষ ঘোষণা এটি। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হবে।

বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তার জনসমর্থন কমেছে।

হোয়াইট হাউস তাদের ওয়েবসাইটে ট্রাম্পের পরিকল্পনার কিছু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যোগ্য অধিকাংশ প্রবীণ অক্টোবরের শুরুতেই সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ৯০ ডলার পাবেন।

যাদের সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তারা অক্টোবরের শুরুতেই মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ডাক ঠিকানায় চেক পাবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

গত মাসে ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হবে। তবে বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ এবং কংগ্রেসের কয়েকজন রিপাবলিকানও ওই পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আলাদাভাবে প্রায় ১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার কাজও করছে। রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, এই অর্থ কিছু নির্বাচনী আসনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে তাদের, যারা ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কিনেছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছিল। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →