স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই ৩২ আসনে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৫:৫৯ এএম
শুনুন
00:00
এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশিরভাগ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও ৩২টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থীশূন্য। ব্যতিক্রম এই ৩২ আসনের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান প্রমুখের আসন।
ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এবং ডামি প্রার্থী না দেওয়ার কারণে এসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই বলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া ঠেকাতে বিকল্প (ডামি) প্রার্থী রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগ না করতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২৭ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ভোটে কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যেতে পারে। ফলে কোনো আসনে প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়তে পারে বা আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ থাকবে না। এক্ষেত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি তা চান না। এ অবস্থায় অনেকেরই ধারণা ছিল এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর গোপালগঞ্জ-৩ আসনেও মো. কামাল হোসেন নামে একজন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সর্বোচ্চ ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বগুড়া-৭ আসনে। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুসারে এবার মোট ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন; যা গতবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ২৬০ জন বেশি। গতবার নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। মোট ৩ হাজার ৫৬ জন প্রার্থী ওই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ছিলেন ৪৮৭ জন।
ব্যতিক্রম ৩২টি আসন
এবার যে ৩২টি আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রাথী নেই সেগুলো হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কুমিল্লা-৯ ও কুমিল্লা-১০, নোয়াখালী-৫, চট্টগ্রাম-৭, ৯ ও ১৩, কক্সবাজার-২, পঞ্চগড়-২, মাগুরা-১, বাগেরহাট-১. পটুয়াখালী-১, শরীয়তপুর-৩, সিলেট-৪ ও ৬, কিশোরগঞ্জ-৪, মানিকগঞ্জ-৩, ঢাকা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১ ও ২, টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল ৮, ময়মনসিংহ-৯, ভোলা-২, বরিশাল-১, ঝালকাঠি-২, বগুড়া-৫, সিরাজগঞ্জ-২ ও পাবনা-৫ আসন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যে বিভ্রান্তি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০৩ জন প্রার্থী দিয়েছে জানালেও হিসাবে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রার্থী তালিকায় চট্টগ্রাম-২ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নাম দুবার লেখা হয়েছে। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নির্বাচন কমিশন তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন বজলুল হক হারুন।
এবার কতটি দল প্রার্থী দিয়েছে, সে সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগে জানিয়েছিল ৩০টি দল প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু গতকাল শনিবার জানায়, ২৯টি দল অংশ নিয়েছে। আবার এই ২৯টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ মুসলীম লীগ জানায়, তারা কোনো প্রার্থী দেয়নি।
কতগুলো দল আংশ নিচ্ছে- এমন প্রশ্নে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের নিবন্ধিত যে ৪৪টি রাজনৈতিক দল আছে, তার মধ্যে ২৯টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জেডি পিপলস নামের একটি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, যেটি আমাদের নিবন্ধিত দল নয়। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে ১ হাজার ৭১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ থেকে ৩০৪ জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।
ওসি ও ইউএনওদের রদবদল সরকার চেয়েছে নাকি আপনারা চেয়েছেন- এ প্রশ্নে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, এটা নির্বাচন কমিশন চেয়েছে। আমাদের কমিশনাররা এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ে সফর করেছেন, তাদের যে ফাইন্ডিংস, তার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন বসে গত ৩০ নভেম্বর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত- এমন প্রশ্নে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের কাছে মাঠপর্যায় থেকে যে তথ্য তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন অনুভব করেছে এ বদলির দরকার।
মাঠপর্যায় থেকে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে- এমন প্রশ্নে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, সব তথ্য তো ওপেনলি বলা যায় না। নির্বাচন কমিশনাররা মাঠপর্যায় থেকে যেসব তথ্য পেয়েছেন, বিভিন্ন প্রার্থী কিংবা বিভিন্ন পর্যায় থেকে যে তথ্য এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। তারা মনে করেছেন যে, বদলি করা প্রয়োজন।
একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, বড় আকারে রদবদল করা হলে পুলিশ প্রশাসনে একটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে, এর দায়ভার ইসি কেন নেবে? তিনি আরও বলেছিলেন, রদবদল করতে গেলে একশ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ বিষয়ে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, একশ কোটি টাকা কেন ব্যয় হবে? তাহলে ওই কমিশনারের কাছে জানতে চাইতে হবে। কমিশনে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমি সেটা বলতে পারব।
ডিসি-এসপিদের বদলির কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আমার জানা নেই। পরবর্তীতে যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয়, তখন বলতে পারব। যদি নির্বাচন কমিশন বসে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে এটা হতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না।
রদবদলের ক্ষেত্রে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, আমি মনে করি নেই। একজন কর্মচারী যে উপজেলা বা জেলায় দায়িত্ব পালন করুক না কেন, তিনি সুষ্ঠুভাবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়ে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে মেসেজ দিয়েছি। এটা পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের ও আমাদের রিটার্নিং অফিসারদের বলেছি। জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এসেছিলেন, সব বিষয়ে তাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেউ যেন নিরাপত্তার কোনো ঘাটতিতে না ভোগে। এরপরও যদি কারও গাফিলতিতে কিছু হয়, তার বিরুদ্ধে ইসি খুব স্ট্রং ব্যবস্থা নেবে।
সব প্রার্থীর দেহরক্ষী দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, এটা তো সম্ভব হবে না। তবে নিরাপত্তার দায়িত্ব তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তারা যেন তা নিশ্চিত করতে পারে, সেটাই আমাদের কাম্য।
সেনা মোতায়েনের কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি কমিশন মনে করে, সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে এ মূহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমার জানা নেই।