|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪২ এএম
১১৭ পঠিত
00:00
00:00
বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন জাপানি বিনিয়োগ এবং এর ফলে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন তিনি। গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বহুমাত্রিক এ বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় আরও অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

টোকিওর বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা সম্প্রতি ঘোষিত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান। তাঁরা টেকসই সরবরাহব্যবস্থা, উন্নত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামো নির্মাণ এবং শিল্প সংযোগ জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। দুই প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও আইসিটি অবকাঠামোর উন্নয়ন একযোগে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক শিল্প মূল্য শৃঙ্খলের একটি বড় কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহের একটি শক্তিশালী প্রবেশদ্বার তৈরি করা।

অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ

সহযোগিতার অগ্রাধিকারভিত্তিক কাঠামোর আওতায় চারটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় টেকসই সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, জ্বালানি খাতের স্বনির্ভরতা এবং ডিজিটাল কাঠামোর আধুনিকায়ন। এ উদ্যোগের অধীন দুই দেশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পুরো মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে একটি বৃহৎ শিল্প ও সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত করতে একমত হয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দেশের স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সুসংহত করার গুরুত্ব অনুধাবন করে এ পদক্ষেপে সম্মতি জানানো হয়। এতে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম হবে। এ সহযোগিতার আওতায় জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই নগর উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। পাশাপাশি ঢাকায় মেট্রোরেলের (এমআরটি) বিভিন্ন লাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সুচারু পরিচালনা ও বন্দরকেন্দ্রিক সড়ক-রেল যোগাযোগ জোরদার করার মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার অঙ্গীকার যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ পায়। তাঁরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধ পুনর্ব্যক্ত করেন।

দ্বিপক্ষীয় স্মারক ও চুক্তি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে তারেক রহমানের সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাতের আগ্রহ বৃদ্ধি ও ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের স্বার্থে দুই দেশ উৎপাদন, খাদ্য ও কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে পরিপূরক ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাকাইচি বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজ ও উন্নত করার ওপর জোর দিলে তারেক রহমান জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ প্রেরণ এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদানসংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত ও প্রাতিষ্ঠানিক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সুসংহত করতে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যাকে দুই নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এছাড়া খাদ্য ও কৃষি খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে প্রতিশ্রুত ইয়েন ঋণ প্রকল্পটিকেও স্বাগত জানানো হয়।

শিল্পের বহুমুখী উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা

ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধারাবাহিক গতি বজায় রাখতে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই দেশ দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্ল্যাটফর্ম এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি কোম্পানির পদচারণা বৃদ্ধির বিষয়ে কথা হয়। জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের অগ্রযাত্রাকে দুই নেতা স্বাগত জানান, যা ভবিষ্যতে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পের বহুমুখীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ প্রসঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, বিষয়টি বিবেচনা ও তদারকি করতে তাঁর সরকার আরও আলোচনা করবে।

জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি যৌথ বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের অধীন বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার তফাত কমাতে জাপানের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় তেলের মজুত বৃদ্ধি, যৌথ প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে কাজ করবে দুই দেশ। এ পরিবেশগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুই দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকারগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইয়েন ঋণ কর্মসূচির আওতায় ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ-২)’ প্রকল্পের জন্য অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিকে দুই নেতা স্বাগত জানান।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ভূরাজনীতি

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা সুনির্দিষ্ট করতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন আইসিটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, যৌথ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বেসামরিক জাহাজ ও সমুদ্রগামী নাবিকদের অবাধ সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় সামুদ্রিক কর্মী ও নাবিকদের জীবন বিপন্ন করতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, বৈশ্বিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিগুলোর প্রতি যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় যৌথ বৈঠকালে তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান তাকাইচি। আলোচনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপহৃত ব্যক্তিদের সমস্যা ও অপহরণের ঘটনার অবিলম্বে ন্যায্য সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ও দেশটির জনগণের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সুবিধাজনক সময়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের সমাদরপূর্ণ আমন্ত্রণ জানান। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি দেন তাকাইচি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনকে স্বাগত জানান এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →