চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে ধোঁয়াশা, ভিন্ন ভিন্ন মত বিভাগীয় প্রধানদের
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চলমান অচলাবস্থা ৩৬ দিনে গড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর আগে একইদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সভা শেষে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তাদের সুবিধামতো নির্ধারণ করবে।
তবে বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অধিকাংশ বিভাগের প্রধানদের মধ্যে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে ১১টি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, একটি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়েটের স্নাতক পর্যায়ের ১২ বিভাগের মধ্যে ১১টি বিভাগের প্রধানদের সাথে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পাননি। কোর্স সমন্বয়কের মাধ্যমে আবেদন পেলে তারা ক্লাস শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ জানালেন, তাদের বিভাগ শতভাগ প্রস্তুত। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে ক্লাস করতে আগ্রহী, আর বাকিরা রোববার থেকে শুরু করতে চেয়েছে। চতুর্থ বর্ষ কাল থেকে ক্লাস শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমি বলেছি, তোমরা মঙ্গলবার আসো, আমরা বুধবার থেকে শুরু করতে চাই।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া জানান, অনেক শিক্ষার্থী দূর-দূরান্তে থাকায় তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও দুই-একজনের কিছুটা দ্বিধা রয়েছে। একই পরিস্থিতি পুরকৌশল বিভাগে; অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক জানান, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ই-মেইলের মাধ্যমে ১ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা জানিয়েছে, কিন্তু অন্য ব্যাচগুলোর থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, অনেকে দূর-দূরান্তে আছে, তাই তাদের আসার জন্য সময় দিতে হচ্ছে। তবে অন্য ব্যাচগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ফেরার কথা জানিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জানিয়েছেন তাদের বিভাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ জানিয়েছেন, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে ক্লাস শুরু করবে, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক এবং বাকিরা রোববার থেকে ফিরবে।
মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২২ ব্যাচের একটি গ্রুপ বুধবার থেকে এবং প্রথম বর্ষের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার থেকে ক্লাস শুরুর কথা জানিয়েছে। ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছিল বলে জানান বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রসেনজিৎ দাশ। এদিকে, বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ জানান, চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলছে এবং অন্য ব্যাচগুলো রোববার থেকে ক্লাস শুরুর আবেদন করেছে।
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা নিশ্চিত করেছেন, বুধবার থেকেই তাদের সকল বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। অন্যদিকে স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চৌধুরী বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা তারা অনুসরণ করবেন, তবে বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর কোনো তথ্য তার কাছে নেই। পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোছা. ফারজানা রহমান জুথীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাঙ্গনের এই সংকট নিরসনে বুধবার ইউজিসির গঠিত একটি পরামর্শক কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে বলে জানা গেছে।