|
|
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
২৪ পঠিত
00:00
00:00
সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি

চট্টগ্রামের সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন অভিভাবকরা। শিক্ষার্থী স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে গত ১১ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে জানানো হয় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এই বিভাগে নতুন ভর্তি বন্ধ থাকবে। এই ঘোষণা আসার পর থেকেই বর্তমান শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

অভিভাবকদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২৮৪ জন শিক্ষার্থী ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বা অভিভাবকদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। হঠাৎ করে বাংলা মাধ্যমে স্থানান্তর করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটবে এবং দীর্ঘমেয়াদী একাডেমিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। বর্তমানে এসব শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে বাংলা মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমে পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন মাধ্যমে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

গত ৫ নভেম্বর ভুক্তভোগী অভিভাবকরা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এতে তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইংরেজি মাধ্যমের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, ১১ অক্টোবরের ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক শিক্ষক কমিটি গঠন এবং অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রমে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। স্মারকলিপিতে অভিভাবকরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের সুনাম ও ইংরেজি মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন তারা।

অভিভাবক অ্যাডভোকেট আমেনা আল রেশমা এ্যানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিডিএ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, তাই স্কুলটিকে বাণিজ্যিকভাবে দেখা কাম্য নয়। তিনি অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। অভিভাবকদের অনেকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কার্যক্রম সচল রাখতে তারা মাসিক বেতন বৃদ্ধিতেও সম্মত আছেন। বর্তমান কাঠামোতে এই শিক্ষার্থীদের বেতন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি নিজেও এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছি না। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) হলো একটা সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান আর সিডিএ পাবলিক স্কুল ও সিডিএর প্রতিষ্ঠান এখানে এটাকে বাণিজ্যিকভাবে চিন্তা করলে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে স্কুলটি এগিয়ে নিয়ে যাক।

এ বিষয়ে সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু হেনা মোস্তফা জামাল জানান, বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি ক্লাসে বর্তমানে মাত্র ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং দশম শ্রেণিতে এই সংখ্যা মাত্র ৫ জন। শিক্ষার্থী সংকটের কারণেই স্কুল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন অভিভাবকদের স্মারকলিপি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অভিভাবকরা এখন সেই আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং আশা করছেন তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন রক্ষায় কর্তৃপক্ষ নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →