|
|
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

ভূমিধসে জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জ

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
৩২ পঠিত
00:00
00:00
ভূমিধসে জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উচ্চমূল্যস্ফীতিতে ক্ষুব্ধ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টি ভূমিধস জয় পেয়েছে। তবে এই নির্বাচনী সাফল্যের পরই তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ। যে উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে রিপাবলিকানরা নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, ঠিক সেই একই সংকটের মুখোমুখি এখন ডেমোক্রেটরা। যদিও আমেরিকানরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার প্রত্যাশা করছেন, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের পক্ষে চাইলেই রাতারাতি দাম কমিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তা ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমার পুরো সুবিধা ভোক্তাদের দেবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই। কিন্তু গত এক দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, এমন নিশ্চয়তা দেয়া কঠিন।

খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের মতো নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমলেও, কয়েক বছরের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা বেশ জটিল। সবকিছুর দাম আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে; কারণ এর ফলে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের আয়ও হ্রাস পেতে পারে। ফলে নতুন ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় দলটির প্রতিনিধিদের জন্য এটিই এখন প্রথম এবং বড় পরীক্ষা। তাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যা ভোটারদের পারিবারিক বাজেটে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

বাজেট ও নীতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ'-এর ফেডারেল বাজেট নীতির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ব্রেন্ডান ডিউক অ্যাক্সিওসকে বলেন, বর্তমানের উচ্চমূল্য ২০১৯ সালের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে নীতিগত কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এর উত্তাপ কমানো যেতে পারে। তার মতে, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁট প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকি পুনর্বহাল এবং ইরান যুদ্ধের অবসান সাধারণ মানুষের ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর বড় শর্ত হলো প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সম্মতি, যা নিশ্চিত নয়। এছাড়া বেকারত্ব বৃদ্ধি বা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিনিয়োগ-বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক সমস্যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকটকে আরও আড়াল করতে পারে, যা সমস্যার সমাধান করবে না। তাই নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে সেগুলোর কিছুটা উল্টে দেয়া সম্ভব।

খাদ্য ও জ্বালানির দামের ওপর ডেমোক্রেটদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বেশ সীমিত। তবে নির্বাচনের পর বাজারে প্রত্যাশার প্রভাবে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। জ্বালানির মূল্যের পরবর্তী অবস্থা নির্ভর করছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। এছাড়া কংগ্রেস চাইলে শুল্ক প্রত্যাহারে ভোট দিতে পারে, যাতে আমদানি করা পণ্য ও স্থানীয় উৎপাদকদের ব্যয় হ্রাস পেতে পারে। যদিও ট্রাম্প এই উদ্যোগে ভেটো দিতে পারেন। স্বাস্থ্যবিমা আইন 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট'-এর ভর্তুকি পুনর্বহাল বা মেডিকেইডে কাটছাঁট প্রত্যাহারের পরিকল্পনাগুলোও ডেমোক্রেটদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কারণে বাধার মুখে পড়তে পারে। তাদের কেউ কেউ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও বলেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় জয়ী অনেক ডেমোক্রেট প্রার্থী নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যেমন, টেক্সাসের জেমস তালারিকো শুল্ক প্রত্যাহার ও বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনার রয় কুপার সব পণ্যের দাম কমাতে কাজ করার কথা বলেছেন, আর সাউথ ক্যারোলাইনার অ্যানি অ্যান্ড্রুজ ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছেন। অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও কিছু সহায়তা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসের নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোজোসা ১ হাজার ৫০০ ডলারের রিবেট বা অর্থ ফেরত দেওয়ার চেক প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

তবে এসব উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বন্ড ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ডাবললাইন ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী জেফ গান্ডলাখ এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য সাশ্রয়ী জীবনযাপন নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দায়িত্ব। তার মতে, দ্রুত দাম কমাতে হলে তাদের কোনো জাদুর কাঠি খুঁজে বের করতে হবে, নয়তো মানুষকে অর্থ দিতে হবে। কিন্তু তাতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ক্রয়ক্ষমতা ফেরাতে পণ্যের দাম কমানোর চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বেশি কার্যকর হলেও তা বেশ ধীর প্রক্রিয়া। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ডেমোক্রেটদের এখন দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতেই হবে, কারণ সাধারণত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দায় প্রেসিডেন্টকেই বেশি বহন করতে হয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুতগতিতে মজুরি বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ফিরে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →