‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বৃদ্ধকে গণপিটুনি,
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের বিজেপি-শাসিত রাজস্থানে ফের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। রাজ্যের ঝালাওয়ার জেলার আকলেরা শহরে এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধকে ‘রোহিঙ্গা’ ও ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেছে একদল উগ্রপন্থী যুবক।
গোমাংস খাওয়ার অভিযোগ তুলে চালানো এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অসহায় ওই বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। তাকে ঘিরে ধরে ৮ থেকে ১০ জন যুবক একের পর এক লাথি, ঘুষি ও লাঠির আঘাত করতে থাকে। কখনও চড়-থাপ্পড়, কখনও পা দিয়ে মাথা ও শরীর চেপে ধরে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয় তাকে।
হামলাকারীরা মারধরের পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বারবার তার পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গোমাংস ভক্ষণের অভিযোগ এনে তারা সহিংসতা আরও বাড়িয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ ব্যক্তি ক্ষীণ কণ্ঠে প্রাণভিক্ষা চাইছেন, কিন্তু নিজেকে রক্ষার মতো শারীরিক শক্তি তার ছিল না।
এই ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মোদি সরকারের আমলে ভারতে বেড়ে চলা গণপিটুনি ও বিদ্বেষমূলক সহিংসতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে এই ঘটনাকে উল্লেখ করছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা।
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সহ-সভাপতি অনিতা যাদব বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “সমস্যার মূল কারণ জানা সত্ত্বেও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারগুলো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এসব রাজ্যে গণপিটুনি যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”
পূর্ববর্তী একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “এই উন্মত্ততা মানুষকে পশুর মতো হত্যা করছে। আকলেরার ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও জবাবদিহির সম্পূর্ণ অভাবকেই তুলে ধরে।”
এদিকে, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ছত্তিশগড় সেবা দল। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এটি কোনো জাতীয়তাবাদ নয়, এটি নগ্ন সহিংসতা এবং ঘৃণার রাজনীতি।”
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা এখন নজরে রেখেছে গোটা দেশ।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন