কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হতে পারে মার্কিন হামলা!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন কর্মীদের প্রত্যাহার শুরু করেছে ওয়াশিংটন। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগাম নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে কর্মী সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে।
এর আগে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে স্পষ্ট বার্তা দেয়—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভেতরে কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তেহরানের এই হুঁশিয়ারির পরপরই মার্কিন কর্মী প্রত্যাহারের খবর সামনে আসে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এক ইউরোপীয় কর্মকর্তার দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
একই ধরনের বক্তব্য এসেছে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে হামলার সময়সূচি ও পরিসর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ থেকেও কর্মী প্রত্যাহার শুরু হয়েছে বলে দোহা নিশ্চিত করেছে। যদিও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত বছর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগের মতো বড় পরিসরের সেনা সমাবেশ বা প্রস্তুতির দৃশ্য এখনো চোখে পড়েনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় গত দুই সপ্তাহে দেশটিতে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন এবং সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এই পরিস্থিতিকে ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস দমন-পীড়ন বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ইরান সরকার এই সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন, বিদেশি শক্তিগুলো ইরানের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তেহরানের দাবি, সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দেশটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সক্রিয় রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
মার্কিন ঘাঁটি থেকে কর্মী প্রত্যাহার এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলার গুঞ্জন—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মুখোমুখি
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন