|
|
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

নির্বাচনের উত্তাপে হেফাজতে ইসলাম চার ধারায় বিভক্ত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
৫ পঠিত
00:00
00:00
নির্বাচনের উত্তাপে হেফাজতে ইসলাম চার ধারায় বিভক্ত
হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা-ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যখন দেশের রাজনীতি তীব্র উত্তাপে, ঠিক তখনই অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মুখে পড়েছে।

নির্বাচন ইস্যুতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অন্তত চারটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যা কওমি অঙ্গনে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রার্থী ঘোষণা ও নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন হেফাজতে ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে দূরে থাকার নীতির কথা বলছে। তবে বাস্তবে সংগঠনটির একাধিক শীর্ষ নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কিংবা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান জানাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ের অনুসারীদের মধ্যেও।

২০১০ সালে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং কওমি মাদরাসাভিত্তিক আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠিত হয়। হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও বেফাক চেয়ারম্যান মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে সংগঠনটির একটি প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

অতীতে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। তবে এবারের নির্বাচনে এসে সংগঠনটির ভেতরে মতবিরোধ ও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এবং তাদের কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম নেই। তবে নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শীর্ষ আলেমদের কিছু বক্তব্য ব্যক্তিগত, সংগঠনগত নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হেফাজতের গঠনতন্ত্র থাকলেও তা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। নীতিগতভাবে সংগঠনটির কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই এবং অতীতের কোনো নির্বাচনেই তারা সরাসরি প্রার্থী দেয়নি।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সহিংসতার পর হেফাজত বড় চাপের মুখে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ও কওমি সনদের স্বীকৃতি নিয়ে সংগঠনের ভেতরে মতবিরোধ তৈরি হয়, যা হাটহাজারী মাদরাসাকেন্দ্রিক আন্দোলন পর্যন্ত গড়ায়।

এবারের নির্বাচনে হেফাজত সংশ্লিষ্ট নেতারা মূলত চারটি ধারায় বিভক্ত। একাংশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে সক্রিয়, আরেক অংশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত। তৃতীয় ধারায় রয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন নেতা, যারা সরাসরি কোনো দলে না থাকলেও জামায়াতবিরোধী বক্তব্যে সক্রিয়। চতুর্থ ধারায় রয়েছেন বৃহৎ একটি অংশ—কওমি মাদরাসাভিত্তিক আলেম ও শিক্ষার্থীরা—যারা নির্বাচন ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম কোনো পক্ষ নেয়নি। তবে যেসব নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত, তাদের অনুসারীরা নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী সক্রিয় হচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এই চারমুখী বিভাজন সংগঠনটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও ঐক্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →