|
|
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

নিষিদ্ধ থেকে মূলধারায়: জামায়াত ও যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
৮ পঠিত
00:00
00:00
নিষিদ্ধ থেকে মূলধারায়: জামায়াত ও যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্ক
ছবি: সংগ্রহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে—এমন মূল্যায়ন করছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা।

এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলটির সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন কূটনীতিকদের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার ভিত্তিতেই জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ গড়ার কৌশল বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যদি শরিয়াহভিত্তিক কোনো নীতি চাপিয়ে দেয় বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, সে পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে—সে বিষয়েও আগাম প্রস্তুতি রয়েছে ওয়াশিংটনের।

গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের একটি গোপন বৈঠকের অডিও রেকর্ডের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক মার্কিন কূটনীতিক মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ‘ইসলামি ধারায় ফিরে এসেছে’ এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নজরকাড়া সাফল্য পেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কূটনীতিক বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামিকে বন্ধু হিসেবে চাই।” তিনি সাংবাদিকদের জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিদের টকশো বা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও আগ্রহ দেখাতে বলেন।

শরিয়াহ আইন কার্যকরের আশঙ্কাকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না জানিয়ে বলেন, জামায়াত যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয় যা ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে—যেমন ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ।

এ বিষয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই ওয়াশিংটন পোস্ট-কে বলেন, ডিসেম্বর মাসে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি নিয়মিত ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে অবস্থান নেয় না এবং জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান গোপন কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। দলের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি প্রতিবেদনে দেশের সামগ্রিক বাস্তবতা প্রতিফলিত হয় না। নির্বাচন সামনে রেখে নানা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিভিন্ন বিশ্লেষণ করছে, তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির গবেষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মুবাশার হাসান মনে করেন, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর জামায়াতে ইসলামী এখন মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে এসেছে এবং নির্বাচনি প্রচারে গতি পেয়েছে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, তারা দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও দাবি করেন তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। ঢাকায় ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। তবে এসব বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র ‘রুটিন কূটনৈতিক কার্যক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

একই সঙ্গে জামায়াত ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী মার্কিন কূটনীতিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জামায়াত যদি ক্ষমতায় গিয়ে নারীদের কর্মক্ষেত্র সীমিত করে বা শরিয়াহ আইন চালু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি বন্ধ করতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে তার ধারণা, জামায়াত এমন পথে যাবে না, কারণ দলটিতে শিক্ষিত ও বাস্তববাদী নেতৃত্ব রয়েছে এবং সম্ভাব্য পরিণতি তাদের স্পষ্ট করে জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →