|
|
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

উখিয়ায় জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত বাপেক্সের

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
২৭ পঠিত
00:00
00:00
উখিয়ায় জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত বাপেক্সের

কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় গত ২৭ অক্টোবর একটি গভীর নলকূপ খননকালে হঠাৎ ভূগর্ভ থেকে গ্যাসের নিঃসরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে সেখানে আগুনের সূত্রপাত ঘটে, যা টানা আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নেভানো সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বরং বেড়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা এখন আর দ্রুত আগুন নেভানোর উদ্যোগ না নিয়ে বরং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার কৌশল গ্রহণ করেছে।

বাপেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাসের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হবে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, গ্যাসের উৎস এবং এর প্রবাহের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না। কারণ, যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়া আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল বা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পর্যবেক্ষণের সময় গ্যাসের প্রবাহ ও আগুনের আচরণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী ১৫ দিন আগুনের শিখা ও গ্যাসের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রথমে সাত দিন পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পেট্রোবাংলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন মহাব্যবস্থাপকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় নির্গত গ্যাসের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বর্তমানে আগুনের প্রচণ্ড তাপের কারণে মূল নির্গমনস্থলের খুব কাছে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট দূর থেকেও তীব্র উত্তাপ অনুভূত হচ্ছে।

ফলে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে এতে কনডেনসেট বা তেলজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এসএম নাফিফুন আরহাম বলেন, বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে আপাতত আগুন জ্বলতে দেওয়াই শ্রেয়, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রয়োজনে পরবর্তীতে ‘রিলিজ কূপ’ খনন করে সিমেন্ট পাম্পের মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকলে বিকল্প হিসেবে রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে ভূগর্ভে সিমেন্ট পাম্প করে গ্যাসের প্রবাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এলাকার শফিরবিল ও ইনানী ছোট খাল পাড়ের প্রায় ৪০০ পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পেট্রোবাংলার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের প্রতিনিধিরা। তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ভূগর্ভের দেড় থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরের কোনো অগভীর গ্যাস মজুত (শ্যালো রিজার্ভার) থেকে এই নিঃসরণ হতে পারে।

প্রকৌশলী মো. শোয়েবের মতে, এটি থার্মোজেনিক নাকি বায়োজেনিক—তা নিশ্চিত করতে গবেষণাগারে বিশ্লেষণ জরুরি। শিখার কালো ধোঁয়া দেখে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতির সন্দেহ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম রোকন জানান, বিশেষ ডিটেক্টর ব্যবহার করে আশপাশের এলাকা পরীক্ষা করা হলেও মূল উৎসের বাইরে কোথাও গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে শুধু একটি স্থানেই নয়, আশপাশের আরও কিছু ভূতাত্ত্বিক স্তরেও অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন দেখা গেছে, যা ভূ-কাঠামোর পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।

এলাকায় বিদ্যমান অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি বাণিজ্যিকভাবে এই গ্যাস বা তেলের মজুত প্রমাণিত হলে তা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক এসএম নাফিফুন আরহাম মনে করিয়ে দেন যে, প্রায় এক হাজার ফুট গভীরতায় খননকালেও তখন গ্যাসের কোনো লক্ষণ মেলেনি। তাই পরবর্তী ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের পরই বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া সম্ভব হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় প্রশাসন এই কারিগরি ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার নিয়মিত ঘটনাস্থল তদারকি করছেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অনুসন্ধান বা উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ঝুঁকি, শব্দদূষণ ও জননিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →