|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ আহ্বান সোনম ওয়াংচুকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
১৪ পঠিত
00:00
00:00
ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ আহ্বান সোনম ওয়াংচুকের
স্বাধীনতা দিবসের আগে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের’ ডাক সোনম ওয়াংচুকের/ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ভারতকে উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দেশে একটি ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ প্রয়োজন।

স্বাধীনতা দিবসের আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দেন। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক ও চরিত্রবান’ নারী-পুরুষের নাম প্রস্তাব করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ওয়াংচুক বলেন, গত কয়েক দিন অসুস্থ থাকার সময় তিনি ভারতের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন। তার দাবি, কয়েক দশক আগে যেসব দেশ ভারতের সমপর্যায়ে বা পিছিয়ে ছিল, তাদের অনেকেই এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে গেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারত উন্নত দেশের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। বিশ্ব অর্থনীতিতেও ভারতের অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়

ওয়াংচুক স্পষ্ট করে বলেন, তার বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা বিরোধী পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। তার মতে, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রে ভিন্ন ভিন্ন দলের সরকার থাকলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা কণ্ঠ দমনের ঘটনা দেখা গেছে।

তিনি ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দুর্নীতি ও অবিচার পুরোপুরি দূর হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে এসব সমস্যা আরও বড় আকার ধারণ করেছে।

শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎও পিছিয়ে থাকবে। তাই দেশের অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তন প্রয়োজন।

নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের আহ্বান

ওয়াংচুকের মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া। সঠিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা না গেলে পুরো দেশই ভুল পথে এগোতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার প্রসঙ্গও তোলেন ওয়াংচুক। তার প্রশ্ন, বিপুলসংখ্যক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে এমন পরিস্থিতিতে একটি দেশ কীভাবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করবে?

‘নিঃস্বার্থ’ নেতৃত্ব খুঁজছেন ওয়াংচুক

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের যোগ্য ও সৎ মানুষদের একত্র করতে চান ওয়াংচুক। তিনি শুধু বুদ্ধিজীবীদের নয়, বরং নিঃস্বার্থ, নির্ভীক ও নীতিবান ব্যক্তিদেরও এই উদ্যোগে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন।

লাদাখে অবস্থান করায় সারা দেশে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া তার পক্ষে কঠিন উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদের নিজ নিজ অঞ্চল থেকে অন্তত একজন করে যোগ্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে বলেছেন।

ওয়াংচুক আরও জানান, তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মতামত শুনতে চান। তার লক্ষ্য, সবার পরামর্শ নিয়ে দেশের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করা। 
 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →