|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

জাতিসংঘে ‘প্রচারণামূলক ভাষণে’ মামদানিকে আক্রমণ করবেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
২২ পঠিত
00:00
00:00
জাতিসংঘে ‘প্রচারণামূলক ভাষণে’ মামদানিকে আক্রমণ করবেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার দল লিকুদ আয়োজিত টোস্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন।-ছবি: রয়টার্স

সরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী বলার মামদানির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই নেতার বিরোধ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টিও সামনে এনেছে।

এদিকে ইসরায়েলে পাঁচ সপ্তাহ পর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মামদানিকে সরাসরি উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি নিউইয়র্কে যাচ্ছেন “আমাদের বীর সেনাদের বিষয়ে সত্য” এবং “আপনার বিষয়ে সত্য” তুলে ধরতে। তিনি মামদানির বিরুদ্ধে হামাসের যোদ্ধাদের সমর্থনের অভিযোগও করেন, যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

মামদানি নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। পরে তিনি জানান, তাকে গ্রেপ্তারের আইনগত ক্ষমতা তার নেই। চলতি সপ্তাহে মামদানি নেতানিয়াহুকে “ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

জানুয়ারিতে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মামদানির সঙ্গে বিরোধের মধ্যে এবারই প্রথম নিউইয়র্ক সফর করছেন নেতানিয়াহু। তার ডানপন্থি সরকারের বিরোধীরা নিউইয়র্কে বিক্ষোভের পরিকল্পনাও করছেন।

ইসরায়েলে আগামী পাঁচ সপ্তাহ পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান ঘটতে পারে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার মধ্যেই নির্বাচনী প্রচার চলছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো বৈঠকও নির্ধারিত নেই।

সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন বলেন, নেতানিয়াহু জাতিসংঘের চেয়ে মূলত ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশেই কথা বলবেন। তার ভাষণটি অনেকটা নির্বাচনী প্রচারণার বক্তব্যের মতো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নেই

জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার জন্য এবার নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর বেশ সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর বিকেলে ভাষণ দিয়ে একই দিন দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, পানামা, ইথিওপিয়া ও কলম্বিয়ার নেতাদের পাশাপাশি গ্রিস, স্লোভেনিয়া ও পাপুয়া নিউগিনির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা জানায়নি তার কার্যালয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নেতানিয়াহুর দল আলোচনা করছিল। তবে কোনো বৈঠক চূড়ান্ত হয়নি।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই নেতা যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে তাদের অবস্থানে মতপার্থক্য দেখা দেয়। নেতানিয়াহু ওই যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেছিলেন।

এই চুক্তিতে অনেক ইসরায়েলি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। একই সময়ে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইসরায়েলিদের একাংশ ট্রাম্পের প্রশাসনের ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক থিংকট্যাংক মিটভিমের প্রেসিডেন্ট নিমরোদ গোরেন বলেন, নির্বাচনের এক মাস আগে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো সাক্ষাৎ না হওয়াকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে, যা নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল

ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অতীতে জাতিসংঘে নিজের বক্তব্যকে বেশ দৃশ্যমানভাবে উপস্থাপন করেছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করতে তিনি বিভিন্ন সময় চার্ট, চিত্র ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করেছেন। ইরান অবশ্য বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

গত বছর নেতানিয়াহু বক্তৃতা মঞ্চে যাওয়ার সময় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি দল অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকেরা উল্লাস করেন।

নিমরোদ গোরেনের মতে, এবারও নেতানিয়াহুর বক্তব্যে আগের মতোই ইসরায়েলের অবস্থানের পক্ষে সাফাই, সমালোচকদের জবাব এবং ইরান নিয়ে সতর্কবার্তা থাকতে পারে। তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—এমন বক্তব্যও তিনি তুলে ধরতে পারেন।

গোরেন আরও বলেন, নেতানিয়াহু নিজের সরকারের সাফল্য এবং ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ও তুলে ধরতে পারেন।

হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে প্রায় তিন বছর আগে চালানো হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে দেশটি ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু, তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং হামাসের এক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর ফলে নেতানিয়াহুর অনেক দেশে ভ্রমণ সীমিত হয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →