|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা অচলাবস্থায়, হরমুজ প্রণালিতে হামলা বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
৩৯ পঠিত
00:00
00:00
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা অচলাবস্থায়, হরমুজ প্রণালিতে হামলা বৃদ্ধি
হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘মায়ুরী নারি’ ইরানের কেশম দ্বীপের উপকূলে আটকে আছে। ছবি: আল জাজিরা

জানায় ইউকেএমটিও। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ড দেশটির উপকূলের কাছে আগুন লাগা একটি ট্যাংকার থেকে ২২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। আগুন লাগার কারণ অবশ্য জানানো হয়নি।

ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজের পেছনের অংশে যুদ্ধবিমানের হামলার ভিডিও প্রকাশ করে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটির চলাচলের সক্ষমতা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ কার্যকর রাখার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে অবরোধ আরোপের পর মার্কিন বাহিনী চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করেছে, ১৩৫টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি ট্যাংকার ধ্বংস করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, অবরোধের কারণে তেহরান ওই পথ দিয়ে কোনো তেল রপ্তানি করতে পারেনি।

গত ৫ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে অন্তত ১২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ। কাতারের উত্তর উপকূলের কাছেও একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির বাইরেও সামুদ্রিক নিরাপত্তাঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাহাজে হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও কমেছে। সিএনবিসিতে শুক্রবার প্রকাশিত কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কম।

যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় অগ্রগতি নেই

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান জুনে সম্মত হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি, ইরান ও ওমানের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া একটি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও চায় তেহরান। ওই চুক্তিতে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য সাময়িকভাবে সমন্বিত রুট নির্ধারণের কথা রয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও শিগগিরই বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহভাবে’ কমাতে হবে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা আসতে পারে।

তেহরান জানিয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার মতো পদক্ষেপ সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনায় আসতে পারে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

রোববার ইরানের পারমাণবিক প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য গড়ে ওঠা দেশটির নিজস্ব পারমাণবিক শিল্পের অর্জন থামানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সমালোচনা করেন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির নিন্দা না জানানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।

ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি বলেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশটি সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় পথ ব্যবহার করবে।

তিনি বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করা গেলে তা অনেক ভালো। তবে তা সম্ভব না হলে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রেই আমাদের স্বার্থ নিশ্চিত করব।’

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →