|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

স্টারলিংক বন্ধে কঠোর ইরান, বাড়ছে ইন্টারনেট বিধিনিষেধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
৩৩৬ পঠিত
00:00
00:00
স্টারলিংক বন্ধে কঠোর ইরান, বাড়ছে ইন্টারনেট বিধিনিষেধ
ইরানে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহার ও স্টারলিংক টার্মিনাল বিতরণ করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হয়। ছবি: আল জাজিরা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ চলতে থাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা এবং বৈশ্বিক ইন্টারনেটে আরও বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংক ইরানে তেহরান সরকারের আরোপ করা কঠোর ফিল্টারিং ও বিধিনিষেধ ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দেশটিতে স্টারলিংক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার এবং স্টারলিংকের টার্মিনাল বিতরণের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে দেশটির কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

২০২৬ সালে ইরানের ৯ কোটি মানুষ দুই দফায় দীর্ঘ সময়ের জন্য সরকার আরোপিত বৈশ্বিক ইন্টারনেট বন্ধের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় তিন সপ্তাহ এবং চলমান যুদ্ধের শুরুতে ৮৮ দিন ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামিরি স্টারলিংককে শত্রুদের ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শত্রুরা এটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইট টার্মিনাল বন্ধ করার জন্য আমাদের বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা রয়েছে।’

স্টারলিংক বন্ধ করতে কী ধরনের ব্যবস্থা বা যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। তবে জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় এমন একটি ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সেই প্রযুক্তি ভাগাভাগি করতে কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল।

জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ থেকে ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্টারলিংক নিষিদ্ধ করেছে অথবা এর ব্যবহার সীমিত করেছে।

স্টারলিংক ব্যবহার বা নিজেদের কাছে রাখার জন্য ইরানে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এসব যন্ত্র আমদানি ও বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ যুক্ত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

আগামিরি ইরানিদের কর্তৃপক্ষ-সমর্থিত জাতীয় তথ্য নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা দেশীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইন্টারনেটে স্তরভিত্তিক প্রবেশাধিকারের ব্যবস্থাকেও সমর্থন করেছেন। এ ব্যবস্থায় ইন্টারনেটে বিধিনিষেধের সময় ব্যবসায়ী, গবেষক ও সাংবাদিকদের মতো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তেহরানভিত্তিক এক ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল-জাজিরাকে জানান, স্টারলিংক সংযোগ বন্ধ করতে ইরানি কর্তৃপক্ষ একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে।

এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের জ্যামার ব্যবহার করে সেবা ব্যাহত করা এবং নতুন যন্ত্র চালু করার প্রক্রিয়া ধীর করতে ভুয়া জিপিএস অবস্থান দেখানো। স্টারলিংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট প্রোটোকল স্থানীয় অ্যাপ ও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত হলে সেগুলোও শনাক্ত করতে পারে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া টহল ও ড্রোনের মাধ্যমে স্টারলিংক টার্মিনাল খুঁজে বের করে জব্দ করার চেষ্টা করা হয়। এসব যন্ত্র বিক্রির স্থানেও অভিযান চালানো হয়।

জুনে ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ নাফতালি বেনেট দাবি করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে ইসরায়েল ইরানে হাজার হাজার স্টারলিংক যন্ত্র পাচার করেছিল।

২০২৩ সাল থেকে ইরান আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের রেডিও রেগুলেশনস বোর্ডেও বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটির নিয়ন্ত্রক নথিপত্রের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে স্টারলিংকের সম্প্রচার বন্ধ করার চেষ্টা করছে দেশটি।

৪ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। অননুমোদিত স্টারলিংক কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানায় তারা।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ইরানের উপপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোহাম্মদ হাফেজ হাকামি সতর্ক করে বলেন, স্টারলিংকের ব্যবহার ব্যাপক হয়ে উঠলে এটি ইরানের সাইবারস্পেস ব্যবস্থাপনার ‘কফিনে শেষ পেরেক’ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এই সেবা অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭-১৮ সালের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদের পর সরকার মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২০১৯ সালের দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় প্রথমবারের মতো এক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করতে হয়। এরপর ২০২২-২৩ সালের বিক্ষোভের পর হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হাকামি বলেন, ‘এই প্রবণতা চলতে থাকলে পরবর্তী সংকটের সময় আমাদের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর নতুন হাতিয়ার হিসেবে স্টারলিংক মৌলিকভাবেই আমাদের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।’

২০২২ সাল থেকে স্টারলিংকের মাধ্যমে ইরানিরা সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিক্ষোভের ভিডিও বিদেশে পাঠাতে পেরেছেন। এরপর থেকে দেশটিতে কয়েক হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

সরকারি অভিযানের ঝুঁকি, সীমিত প্রাপ্যতা এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে দেশটির অধিকাংশ মানুষ এখনো স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ পান না। তাদের নির্ভর করতে হয় ইরানের নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর, যেখানে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সেবা ও হাজার হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিংসংক্রান্ত বিধিনিষেধও ইরানিদের বৈশ্বিক সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।

এসব বাধা এড়াতে অধিকাংশ ইরানি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) এবং অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে অবাধ ইন্টারনেটে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে এসব পদ্ধতিতে সংযোগের গতি কমে যেতে পারে, ব্যয় বাড়তে পারে কিংবা অনিরাপদ সংযোগের কারণে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধ তীব্র হলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেটে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমেছিল। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়াই সেই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, সাইবার হামলা থেকে জনগণ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার কথা বিবেচনা করে সরকারি সংস্থাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ডেটাবেস ও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার গুরুত্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে কখনো কখনো ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে হয়। আমরা বিষয়টি অস্বীকার করছি না।’

কর্তৃপক্ষ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছে বলে জানিয়েছে। তবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে সাইবারস্পেস নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি নথি প্রকাশ করা হয়। সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব আগামিরি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে নথিটি বিবেচনাধীন ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে এটি গোপন রাখা হয়েছিল।

নথিতে কোনো প্ল্যাটফর্ম পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও বিক্ষোভের কারণে নীতিমালাটি বাস্তবায়নের কাজ থমকে গেছে।

নথিতে বলা হয়েছে, গুগল প্লে ও হোয়াটসঅ্যাপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, ইউটিউব ও টেলিগ্রামকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর এমন শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে মনে করা হচ্ছে। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →