পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, জেটির জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ দ্বীপ। পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে এখন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোতে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জার কাজ। দ্বীপের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যটকদের বরণ করার উপযোগী করে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক আবেদন জমা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা, যার বিপরীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
দ্বীপের ইকো রিসোর্টের পরিচালক ও ব্যবসায়ী খায়রুল আলম জানান, দীর্ঘদিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রিসোর্টের কাঠের কাঠামো, ছাউনি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই বছর ধরে রাত্রিযাপন ও পর্যটক চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সংকটে ছিলেন। তবে পর্যটন উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণায় আগাম বুকিং পেতে শুরু করেছেন তারা। একই ধরনের প্রস্তুতির কথা জানান ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম, যিনি তার রিসোর্টের বাঁশের বেড়া ও ছাউনি সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্বীপে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে।
দ্বীপের প্রস্তুতির পাশাপাশি জেটির জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর পন্টুনে বড় বড় গর্ত ও মরিচা জমেছে, যা দ্রুত মেরামত না করলে পর্যটকদের ওঠানামার সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাসিন্দা মুহাম্মদ আমিন বলেন, জেটির বেহাল দশা পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামও জেটি মেরামতের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন জানান, প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য জেটির কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। বর্তমানে এর পন্টুন মেরামতের কাজ চলছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার আগেই জেটির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে, যাতে আগত ভ্রমণপিপাসুদের কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে না হয়।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা আক্ষেপ করে জানান, বছরে মাত্র দুই-তিন মাসের মৌসুমের আয় দিয়েই তাদের সারা বছরের জীবনধারণ করতে হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেন্টমার্টিন দ্বীপ পুনরায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার খবরটি দ্বীপের অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। এখন কেবল জেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন