মূর্তি ভাঙচুরে অভিযুক্ত দুই হিন্দু ভাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় বিভাজন উসকে দিয়ে রাজনৈতিক লাভ তোলার একটি পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে দিল শান্তিপুর থানার পুলিশ। নদিয়ার শান্তিপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা হলেও পুলিশের তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজে উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমা ভাঙার ঘটনায় কোনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর সংশ্লিষ্টতা নেই। মদ্যপ অবস্থায় ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই এই ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় দুই হিন্দু যুবক—অমিত দে ও অসিত দে।
রানাঘাট পুলিশ জেলার শান্তিপুরের মঠলগড় এলাকায় প্রায় তিন দশক ধরে প্রতিমা নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী জয়ন্ত দাস। আসন্ন পূজা উপলক্ষে আগমেশ্বরী তলার কারখানার বাইরে রাস্তার পাশে রাখা ছিল প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি কালী ও সরস্বতী মূর্তি। গত ৫ জানুয়ারি রাতে জয়ন্ত দাসের ছেলের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে অমিত ও অসিত দে। অভিযোগ, সেই রাগ থেকেই গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় তারা প্রতিমাগুলিতে ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টিকে ‘হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা’ হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক প্রচারে নামে বিজেপি। দলের আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ছবি পোস্ট করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গলরাজ’ এবং ‘সনাতন ধর্ম আক্রান্ত’—এমন অভিযোগ তোলেন। এই পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
তবে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হওয়ার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে স্পষ্ট দেখা যায়, অভিযুক্ত দুই ভাইই মূর্তিগুলো ভাঙচুর করছে। ফলে ঘটনার সঙ্গে কোনো সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক যোগ নেই বলে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় পুলিশ প্রশাসন।
রানাঘাট পুলিশ জেলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবাদের ফল। আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযুক্ত অমিত দে-কে আটক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি করা প্রতিমা ভাঙচুর হওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিল্পী জয়ন্ত দাস বলেন, “আমার বছরের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে গেল। যারা করেছে তারা এলাকারই ছেলে। এর সঙ্গে কোনো রাজনীতি নেই। আমি শুধু দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।”
বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির প্রচারকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন