|
|
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
৩৪ পঠিত
00:00
00:00
হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রশাসনের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারের নাম ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই নিয়োগকে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের একটি কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সাথে রাজনৈতিক লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতেই ট্রাম্প মিলারের ওপর আস্থা রেখেছেন। এর আগে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক নির্বাচনী ফলাফলের পর সুসি ওয়াইলস পদ থেকে অব্যাহতি নিলে এই পদটি খালি হয়।

সিএনএন ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর কারণে ট্রাম্প তার দলের বর্তমান কৌশল নিয়ে প্রচণ্ড অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। দলীয় উচ্চপর্যায়ের চাপের মুখে ওয়াইলস সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। আগামী সোমবার থেকে মিলার তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, মিলার তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওয়াইলস তার অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন এবং এই রদবদলটি নির্বাচনের ফলাফলের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের রাতে ট্রাম্প তার ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াইলসকে দায়ী করেছিলেন। এছাড়া ওয়াইলস বর্তমানে ব্যক্তিগতভাবে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার মতো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের চিফ অব স্টাফদের তুলনায় দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মিলারের এই নিয়োগের পেছনে তার স্ত্রী কেটি মিলারের পর্দার আড়ালের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও শোনা যাচ্ছে। নতুন এই নিয়োগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সন্তোষ প্রকাশ করে মিলারকে কখনো পিছপা না হওয়া ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

স্টিফেন মিলার ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কঠোর অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইস কর্মকর্তাদের জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের নজিরবিহীন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, মিলারের নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প তার পুরনো কঠোর নীতিতে ফিরে এসেছেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানকে আরও সংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে মিলারের এই নিয়োগ ডেমোক্রেট শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। হাউস লিডার হেকিম জেফরিস তাকে বিপজ্জনক বহিরাগত-বিদ্বেষী এবং চরমপন্থী হিসেবে সমালোচনা করেছেন। মিলার এর আগে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী ও গুপ্তঘাতক বলে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। একইসাথে ভেনিজুয়েলা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তার পরিচালিত সামরিক ও মাদকবিরোধী অভিযান নিয়েও কঠোর সমালোচনা রয়েছে।

মিলারকে নিয়ে রিপাবলিকান দলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সেনেটর থম টিলিস তাকে অযোগ্য বললেও সেনেটর মাইক লি তাকে একজন রক্ষণশীল যোদ্ধা হিসেবে প্রশংসা করেছেন। এছাড়া নবনির্বাচিত ডেমোক্রেট সেনেটর জেমস টালারিকোকে ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থী হিসেবে কটূক্তি করার ঘটনাটিও আলোচনায় রয়েছে। এদিকে উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যবসা দমনের কথা বললেও কট্টরপন্থী মিলারের আগমনে সেই নীতির প্রয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে মিলারের এই নিয়োগ নতুন কংগ্রেসে বড় ধরনের সংঘাতের আভাস দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →