|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসিতে ভরাডুবি: ইংরেজিতেই ফেল ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
৪০ পঠিত
00:00
00:00
চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসিতে ভরাডুবি: ইংরেজিতেই ফেল ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫০ হাজার ১৬২ জন। অর্থাৎ পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে এই বোর্ডের জন্য সর্বনিম্ন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে ৪৬ হাজার ১৭৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও গত বছরের ৬ হাজার ১৩০ জন থেকে কমে এ বছর ২ হাজার ৯২৯ জনে নেমে এসেছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৬ হাজার ৩৩৫ জনের মধ্যে ফেল করেছে ৪৬ হাজার ১৭৩ জন। ফেল করেছে ৪৬ হাজার ১৭৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ বিষয়ে ফেল করেছে ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ২০১টি। অভিভাবক সাদেক আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রয়োজন ছিল ইংরেজিতে ধারাবাহিকভাবে নিজের বক্তব্য প্রকাশের সক্ষমতা।

পরীক্ষায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ইংরেজি বিষয়ে। আবশ্যিক এই বিষয়ে ৯৯ হাজার ৮৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৩৪ হাজার ১৭৭ জন। এই বিষয়ে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বাংলা বিষয়ে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বাংলা ও ইংরেজির পাসের হারের এই ব্যবধান ১৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ পয়েন্ট। শিক্ষা বিশ্লেষকরা শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতির অভাব এবং মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির ঘাটতিকে এই ফলাফলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৯ হাজার ৮৫১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬৫ হাজার ৬৭৪ জন। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা আবশ্যিক বিষয়ে ৯৯ হাজার ৮৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮৩ হাজার ৬১৪ জন। Application Writing-এ কলেজের শ্রেণিকক্ষে Multimedia Facilities স্থাপনের জন্য অধ্যক্ষের কাছে আবেদন, Report Writing-এ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর Facebook-এর প্রভাব, Paragraph Writing-এ A Visit to a Book Fair এবং Composition Writing-এ The Importance of Tree। মূল প্রশ্নপত্রেও বাক্যটি এভাবে মুদ্রিত হয়ে থাকলে তা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। তবে এ ধরনের একটি অসঙ্গতি সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলার মতো তথ্য নেই।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলের ক্ষেত্রেও ব্যাপক বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিজ্ঞানের চেয়ে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৬ দশমিক ০৬ শতাংশ কম। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামগ্রিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়া আইসিটিতে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোর মধ্যে উচ্চতর গণিতে পাসের হার ৭০ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও পদার্থবিজ্ঞানে ৮৬ দশমিক ০৬ শতাংশ, রসায়নে ৮৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং জীববিজ্ঞানে ৮৩ দশমিক ০৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আইসিটিতে একই সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭৩ হাজার ২৫৪ জন।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে পাসের হার তুলনামূলক ভালো। অর্থনীতিতে ৭৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, সমাজবিজ্ঞানে ৭৫ দশমিক ০১ শতাংশ, যুক্তিবিদ্যায় ৭৪ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ইতিহাসে ৭৩ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী সফল হয়েছে। পৌরনীতি ও সুশাসনে পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে হিসাববিজ্ঞানে ৮১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ব্যবসায় সংগঠনে ৮৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমায় ৮৯ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া মনোবিজ্ঞান, ভূগোল, কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এবং সামাজিক কর্মের মতো কিছু বিষয়ে পাসের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। মনোবিজ্ঞানে ৯৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ভূগোলে ৯৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, কৃষিশিক্ষায় ৯৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৯৬ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং সামাজিক কর্মে ৯৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। তবে এ দুটি বিষয়ে পরীক্ষার্থী ছিলেন মাত্র ৯ জন করে। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে Grammar অংশে ছিল ৬০ নম্বর এবং Composition অংশে ৪০ নম্বর। খাদ্য ও পুষ্টি এবং গার্হস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন বিষয়ে পাসের হার শতভাগ। অর্থাৎ শুধু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকলেই ভালো নম্বর পাওয়ার সুযোগ ছিল না।

ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তনকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাক্যের মধ্যে কারণ, ফলাফল, বিরোধ ও সংযোজনের সম্পর্ক বুঝতে হয়েছে।

প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার বড় অংশজুড়ে ছিল প্রয়োগনির্ভর প্রশ্ন।

ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ করার চেয়ে বাক্যের অর্থ বুঝে তা প্রয়োগের দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে Pronoun Reference, Modifiers, Narration এবং Sentence Connectors-এর মতো অংশে শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। Grammar-এর ১২টি প্রশ্নে Article, Preposition, Suitable Phrases/Words, Completing Sentences, Right Form of Verbs, Transformation, Narration, Pronoun Reference, Modifiers, Sentence Connectors, Synonym-Antonym ও Punctuation থেকে প্রশ্ন করা হয়।

কেবল নিয়ম জানলেই এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব ছিল না।

এছাড়া প্রশ্নপত্রে সম্পাদনাগত অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের একটি বাক্যে ‘There live a very clever fox’ মুদ্রণ ত্রুটির কারণে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনায় দক্ষতার অভাব ছিল স্পষ্ট। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষমুখী নয় এবং তারা অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এবার নির্ধারিত কঠোর নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে, ফলে ঢালাও নম্বর দেওয়ার সুযোগ ছিল না। অভিভাবক সাদেক আহমেদের মতো অনেকেই সন্তানদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিষয়গুলো পরিচিত হলেও নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ, প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন, বাক্য গঠন এবং ভাষার শুদ্ধতা বজায় রাখা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকেরা যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করেছেন।

পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে কেবল বিষয়ভিত্তিক জটিলতাই দায়ী নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরীক্ষার সময়সূচিতে ঘনঘন পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট এবং সঠিক সময়ে সিলেবাস সম্পন্ন করতে না পারার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের চেয়ে মোবাইল ও ইন্টারনেটের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ায় নিয়মিত পড়াশোনায় অনীহা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →