বারে অসুস্থ হয়ে পথে মৃত্যু, গেজেটে ‘জুলাই শহীদ’ ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৩৫, ২ মার্চ ২০২৬

বারে অসুস্থ হয়ে পথে মৃত্যু, গেজেটে ‘জুলাই শহীদ’ ঘোষণা

ছবি: কালের কন্ঠ

গেজেটে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে নাম থাকা আল হামীম সায়মনের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তার মৃত্যুর পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই অভ্যুত্থান শাখা প্রকাশিত ৮৪৪ জনের তালিকায় ১০৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয় তার নাম।

পরিবার পায় সরকার ঘোষিত ৩০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা। কিন্তু সম্প্রতি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র—তিনি আদৌ আন্দোলনে নিহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আন্দোলনে না গিয়েও শহীদ তালিকায়?

১৮ জুলাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা চলছিল। ওই দিন বিকেলে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকার বাসা থেকে একটি ফোনকল পেয়ে বের হন সায়মন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহ থাকার খবর পায় পরিবার। পরদিন জানাজা শেষে দাউদকান্দিতে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, সায়মন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না; বরং তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জুলাইবিরোধী পোস্টও ছিল বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সায়মনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যু সনদে লেখা ছিল: “Brought in dead. Cause of death will be ascertained after post mortem. H/O Physical Assault।” অর্থাৎ ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয়।

কিন্তু পরিবারের আবেদনের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। সবুজবাগ থানার এক উপপরিদর্শক জানান, সুরতহালে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রত্যয়ন দেওয়ায় লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সায়মনের বাবা প্রথমে বলেন ছেলে অসুস্থ হয়ে স্ট্রোক করেছে। পরে দাবি করেন, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার মা দাবি করেন, বুকে গুলি লেগেছিল। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে এসব বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।

মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু?

সায়মনের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে থাকা স্থানীয় এক যুবক দাবি করেছেন, তারা কাকরাইলের একটি বারে যান এবং সেখানে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর সায়মন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও মাথা ঘোরার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ভয়ে প্রথমে বিষয়টি গোপন করা হয় বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের মধ্যেও এমন গুঞ্জন রয়েছে যে অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরেই মৃত্যু হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি।

এক বছর পর হত্যা মামলা

মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুন রামপুরা থানায় অজ্ঞাত ১০০–১৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন সায়মনের বাবা। অভিযোগে বলা হয়, রামপুরা ব্রিজ এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর নাম বা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এখনো মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আবেদন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আর্থিক সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন

প্রথমে সরকার থেকে কোনো অর্থ না নেওয়ার দাবি করলেও পরে সায়মনের বাবা স্বীকার করেন, তার নামে এফডিআর হিসেবে ৩০ লাখ টাকা জমা রাখা হয়েছে।

তদন্তের আহ্বান

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রতারণার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রয়োজন হলে মরদেহ উত্তোলন করে হাড়ের রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

আল হামীম সায়মনের মৃত্যু—আন্দোলনে নাকি অন্য কারণে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন, পারিবারিক বক্তব্যে অসঙ্গতি এবং প্রত্যক্ষদর্শীর ভিন্ন বয়ান—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।গেজেটে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে নাম থাকা আল হামীম সায়মনের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তার মৃত্যুর পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই অভ্যুত্থান শাখা প্রকাশিত ৮৪৪ জনের তালিকায় ১০৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয় তার নাম। পরিবার পায় সরকার ঘোষিত ৩০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা। কিন্তু সম্প্রতি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র—তিনি আদৌ আন্দোলনে নিহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আন্দোলনে না গিয়েও শহীদ তালিকায়?

১৮ জুলাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা চলছিল। ওই দিন বিকেলে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকার বাসা থেকে একটি ফোনকল পেয়ে বের হন সায়মন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহ থাকার খবর পায় পরিবার। পরদিন জানাজা শেষে দাউদকান্দিতে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, সায়মন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না; বরং তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জুলাইবিরোধী পোস্টও ছিল বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সায়মনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যু সনদে লেখা ছিল: “Brought in dead. Cause of death will be ascertained after post mortem. H/O Physical Assault।” অর্থাৎ ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয়।

কিন্তু পরিবারের আবেদনের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। সবুজবাগ থানার এক উপপরিদর্শক জানান, সুরতহালে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রত্যয়ন দেওয়ায় লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সায়মনের বাবা প্রথমে বলেন ছেলে অসুস্থ হয়ে স্ট্রোক করেছে। পরে দাবি করেন, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার মা দাবি করেন, বুকে গুলি লেগেছিল। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে এসব বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।

মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু?

সায়মনের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে থাকা স্থানীয় এক যুবক দাবি করেছেন, তারা কাকরাইলের একটি বারে যান এবং সেখানে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর সায়মন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও মাথা ঘোরার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ভয়ে প্রথমে বিষয়টি গোপন করা হয় বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের মধ্যেও এমন গুঞ্জন রয়েছে যে অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরেই মৃত্যু হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি।

এক বছর পর হত্যা মামলা

মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুন রামপুরা থানায় অজ্ঞাত ১০০–১৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন সায়মনের বাবা। অভিযোগে বলা হয়, রামপুরা ব্রিজ এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর নাম বা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এখনো মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আবেদন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আর্থিক সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন

প্রথমে সরকার থেকে কোনো অর্থ না নেওয়ার দাবি করলেও পরে সায়মনের বাবা স্বীকার করেন, তার নামে এফডিআর হিসেবে ৩০ লাখ টাকা জমা রাখা হয়েছে।

তদন্তের আহ্বান

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রতারণার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রয়োজন হলে মরদেহ উত্তোলন করে হাড়ের রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

আল হামীম সায়মনের মৃত্যু—আন্দোলনে নাকি অন্য কারণে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন, পারিবারিক বক্তব্যে অসঙ্গতি এবং প্রত্যক্ষদর্শীর ভিন্ন বয়ান—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

আরও পড়ুন