বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:১১, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১১:১২, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ছবি: সংগ্রহীত

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে ভাষণ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের নয়া দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই বক্তব্য দেন।

ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অবৈধ, সহিংস ও দখলদার প্রশাসনের’ প্রধান হিসেবে আখ্যায়িত করেন শেখ হাসিনা। তিনি ড. ইউনূসকে ‘অর্থ পাচারকারী’, ‘ক্ষমতালোভী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশ আজ ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।”

শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কার্যত “একটি বিশাল কারাগার, একটি বধ্যভূমি ও মৃত্যু উপত্যকায়” পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, দেশে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়েছে এবং নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে একটি “সতর্কভাবে সাজানো ষড়যন্ত্র” আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওই দিনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র নির্বাসনে গেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেই; মব ভায়োলেন্স, লুটপাট ও চাঁদাবাজিতে রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এসব অস্থিতিশীলতার পেছনে তিনি উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও বিদেশি স্বার্থ জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জাতীয় সম্পদ ও কৌশলগত স্বার্থ বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার ভাষায়, “জাতিকে প্রতারিত করে খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।”

দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শেখ হাসিনা তার ভাষণে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো—
১) মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘অবৈধ ইউনূস প্রশাসন’ অপসারণ
২) চলমান সহিংসতা বন্ধ করে জননিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
৩) নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অসহায় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
৪) সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা
৫) গত এক বছরে সংঘটিত ঘটনাবলি তদন্তে জাতিসংঘের মাধ্যমে একটি নতুন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা

ভাষণের শেষাংশে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের “একমাত্র বৈধ অভিভাবক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তিগুলোকে সংবিধান পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যে কোনো আসনে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।

সূত্র: এফসিসি

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন