নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১:০১, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির দেশ ছিল বাংলাদেশ এবং ২০২৬ সালেও এ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ সম্প্রতি ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ২০২৬ সালের সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ হার কিছুটা কমে ৭ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে, তবে তখনও অঞ্চলটির মধ্যে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিই সবচেয়ে বেশি থাকবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও টানা তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি কার্যত সাধারণ মানুষের ওপর এক ধরনের অদৃশ্য করের মতো প্রভাব ফেলে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও যদি আয়ের সমান হারে বৃদ্ধি না হয়, তাহলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। ফলে সংসার চালাতে ধারদেনা বাড়ে বা খাদ্য, পোশাক, যাতায়াতসহ নানা খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হয়। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার বাড়ানো, নিত্যপণ্যে শুল্ক ও কর কমানো এবং আমদানি স্বাভাবিক রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও গত দুই মাস ধরে আবার মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বেশিরভাগেই মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে। ২০২৫ সালে মালদ্বীপে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ৪ শতাংশ এবং ভারতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ভুটান ও নেপালে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ করে এবং শ্রীলঙ্কায় মাত্র দশমিক ৬ শতাংশ।
একসময় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সংকটে পড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ দুটি তা উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কমলেও এখনো তা ৮ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
ব্রেকিং