সাবেক

অ্যাটর্নি জেনারেলের আপত্তিতে বাতিল হলো না আওয়ামী লীগের নিবন্ধন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:৩২, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

অ্যাটর্নি জেনারেলের আপত্তিতে বাতিল হলো না আওয়ামী লীগের নিবন্ধন

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান-ছবি: সংগৃহীত


কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা নিবন্ধন বাতিল করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্য নয় বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, সংবিধানে যে সংগঠন ও রাজনৈতিক দল পরিচালনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সরকার সেই নীতিতেই বিশ্বাস করে।

মঙ্গলবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে একটি রিটের শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রিটটি খারিজের আবেদন জানান। এ সময় তিনি বলেন, অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের সঙ্গে জড়িতদের অন্যায় ও অবিচারের বিচার অবশ্যই হবে, তবে সেটি হবে আইন ও আদালতের মাধ্যমে। এ জন্য কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা সমাধান নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে অনেক নেতা-কর্মী আছেন যারা নিজ নিজ রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করেন। সে কারণে একটি রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আদালতের এখতিয়ার হওয়া উচিত নয়।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেখানে বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দল পরিচালনার স্বাধীনতা খর্ব করা যেতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের ওপর কোনো আঘাত এলে তা আইনজীবী সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তবে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয় আদালতে এনে বিচার ব্যবস্থাকে মাঠের রাজনীতির অংশ বানানো সঠিক নয়। এ ছাড়া যে রিটটি করা হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে পক্ষভুক্ত করা হয়নি এবং কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টকে জানান, রিটটির কোনো আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং এটি মেনটেনেবল নয়। এ কারণে রিটটি খারিজের পাশাপাশি রিটকারীর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপের আবেদনও করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর সহিংসতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন সারডা সোসাইটির পক্ষে এর নির্বাহী পরিচালক আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া রিটটি দায়ের করেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন