এস এম রাসেল আহমেদ
প্রকাশ: ২৩:৪৪, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৪৯, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রায় প্রত্যাখ্যান করে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের প্রতিবাদ-ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত পূর্বনির্ধারিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসনের রায়’ আখ্যা দিয়ে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তারা এই প্রত্যাখ্যানের কথা জানান এবং রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে একটি ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ এই প্রহসনমূলক রায় দিয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতারা এই রায়কে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
বিবৃতিতে ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শুধু একটি ছাত্রসংগঠনের নাম নয়; এটি বাঙালির অধিকার, গণতন্ত্র, মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই সংগঠন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৭ হাজার নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কোনো অবৈধ, পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ প্রতিষ্ঠা এ দেশের ছাত্রসমাজ ও জনগণ মেনে নেবে না।
সাবেক নেতারা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, "ইতিহাসের সত্যকে কোনো প্রহসনের রায় দিয়ে মুছে ফেলা যায় না। সত্য কখনো পরাজিত হয় না, ইতিহাস কখনো মিথ্যার কাছে মাথা নত করে না।"
তারা আরও জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস কোনো ষড়যন্ত্র বা প্রহসনের বিচার দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের একটি বড় অংশ।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক সভাপতি মাঈনউদ্দিন হাসান চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, লিয়াকত সিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুর রহমান সোহাগ, রেজেওয়ানুল হক শোভন এবং আল নাহিয়ান খান জয়।
একইসঙ্গে সাবেক সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে স্বাক্ষর করেন— অসিম কুমার উকিল, ইকবালুর রহিম, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সিদ্দিকী নাজমুল আলম, এস এম জাকির হোসাইন, গোলাম রব্বানী এবং লেখক ভট্টাচার্য।
ব্রেকিং