নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৫২, ২৪ আগস্ট ২০২৬
চব্বিশের আন্দোলনকে ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল’ হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাসিস্টদের’ দেশে ফেরাতে নানা ধরনের বয়ান তৈরির পরিকল্পনা চলছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের যোদ্ধারা দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।
রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত যুদ্ধের আগে একটি প্রস্তুতি বা মহড়া হিসেবে দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, মূল যুদ্ধের আগে বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও মহড়া দিতে হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আশা করেছিলেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ‘আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। তবে তার দাবি, পরিস্থিতির পরিবর্তে সেই আবর্জনা আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো। যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর এটি প্রভাব বিস্তার করবে, তার মধ্যেই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির। তার অভিযোগ, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ও ব্যক্তির স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা থেকে কোনো সরকারই এখন পর্যন্ত পুরোপুরি বের হতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা জেগে উঠেছিলেন, তারা সবাই মারা যাননি বা ঘুমিয়ে পড়েননি; বরং তারা দেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় সিরাত উদযাপন কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ২০ জনের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ব্রেকিং