স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হলো তিলক পরা হিন্দু শিশুকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:১৩, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হলো তিলক পরা হিন্দু শিশুকে

ছবি: সংগ্রহীত

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কপালে ধর্মীয় প্রতীক ‘তিলক’ ধারণ করার কারণে এক আট বছর বয়সি হিন্দু শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়।

ব্রিটিশ হিন্দু ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইনসাইট ইউকে’ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির দাবি, লন্ডনের ভিকারস গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীরা শিশুটিকে তার ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে চাপ দেন। একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর কাছে এভাবে ধর্ম নিয়ে কৈফিয়ত চাওয়াকে ইনসাইট ইউকে অযৌক্তিক ও অপেশাদার আচরণ বলে উল্লেখ করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিরতির সময় শিশুটির ওপর অতিরিক্ত নজরদারি করতেন, যা তাকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করে তোলে। ধীরে ধীরে সে খেলাধুলা ছেড়ে দেয় এবং নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখতে শুরু করে।

ধর্মীয় আচার পালনের কারণে শিশুটিকে স্কুলের কিছু দায়িত্বশীল ভূমিকাও থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ইনসাইট ইউকে বলছে, এটি ২০১০ সালের ব্রিটিশ সমঅধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে ধর্মকে সংরক্ষিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, কোনো শিশুরই তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একা বা বিচ্ছিন্ন বোধ করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন এমন আচরণ দায়িত্বশীলদের কাছ থেকেই আসে।

ভুক্তভোগী শিশুটির অভিভাবকসহ অন্যান্য হিন্দু পরিবার তিলকের ধর্মীয় গুরুত্ব বোঝাতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে চাইলেও প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ তাতে সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ।

ইনসাইট ইউকে আরও জানিয়েছে, গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে স্কুল কর্তৃপক্ষ হিন্দু ধর্মীয় আচারকে অবমূল্যায়ন করেছে। একই ধরনের ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগে এ স্কুল থেকে ইতোমধ্যে অন্তত চারজন শিক্ষার্থী চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন