আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:০২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরের একটি দৃশ্য।-ছবি: রয়টার্স
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগ ঠেকানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বজায় থাকবে। চুক্তিটির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদও নেই বলে জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবারই রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেন সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিভুক্ত করার ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
১৯৫১ সালের একটি চুক্তির কারণে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ব্যাপক অধিকার আগে থেকেই রয়েছে। বর্তমানে দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পেস ফোর্স ঘাঁটিও রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি দেখা যাবে। তবে নতুন কোনো সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন সমঝোতাটি উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তবে গ্রিনল্যান্ডে চুক্তিটি কীভাবে গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটির অনেক বাসিন্দা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আগে থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ স্থায়ীভাবে সমাধান করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তির আওতায় ন্যাটোর বাইরের দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নির্দিষ্ট কিছু ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগের’ সুযোগ থাকবে। চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশ, ঘাঁটি স্থাপন ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার দেবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হয়ে গেলেও চুক্তির বিধান কার্যকর থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স
ব্রেকিং