প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৪৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি

ওমানের সোহার উপকূলের কাছে সমুদ্রে পাশাপাশি অবস্থানরত জাহাজের স্যাটেলাইট চিত্র-ছবি: আল জাজিরা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এই পরিবর্তন কংগ্রেসের কিছু সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-৩৫ কিনতে সৌদি আরব বহু বছর ধরে চেষ্টা করে আসছে। এসব বিমানে এমন স্টেলথ প্রযুক্তি রয়েছে, যা শত্রুর শনাক্তকরণ এড়াতে সহায়তা করে।

যুক্তরাষ্ট্র এতদিন এ বিষয়ে অনাগ্রহী ছিল। এর একটি কারণ হলো, দেশটি তার মিত্র ইসরায়েলকে এফ-৩৫ সরবরাহ করে। মার্কিন আইনের অধীনে আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ইসরায়েলকে সর্বাধুনিক মার্কিন অস্ত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

রিয়াদের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলারের (১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড) এই বিক্রি খতিয়ে দেখা বা তা ঠেকানোর চেষ্টা করতে কংগ্রেসের হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বৃহস্পতিবার এই বিক্রির বিরোধিতা করেছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এর ফলে আমেরিকার সামরিক প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে।’

অন্যান্য ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং কয়েকজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের আশঙ্কা, দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারত্বের আওতায় রিয়াদ চীনের সঙ্গে এই সংবেদনশীল প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার চুক্তিটি ঘোষণা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য’ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

দপ্তরটি বলেছে, এই চুক্তি ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তি হিসেবে কাজ করা ন্যাটোর সদস্য নয়—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের নিরাপত্তা’ বাড়াবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, ‘এই সরঞ্জাম ও সহায়তা বিক্রির প্রস্তাব আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না।’

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে তিনি হোয়াইট হাউসে সফর করেছিলেন।

এর আগে গত বছরের মে মাসে রিয়াদে দুজনের বৈঠক হয়। সেখানে ১৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি সম্পন্ন হয়, যেটিকে হোয়াইট হাউস ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিক্রয় চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

সৌদি আরবের জন্য সর্বশেষ প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকবে। এসব যুদ্ধবিমান তৈরি করে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।

এর ফলে সৌদি আরবের কাছে থাকা এফ-৩৫ বিমানের সংখ্যা ইসরায়েলের বর্তমান বহরের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে। ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে ৫০টি এফ-৩৫ রয়েছে।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মে মাসে ঘোষণা করেছে, দেশটি আরও একটি এফ-৩৫ স্কোয়াড্রন কেনার পরিকল্পনা করছে।

জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ইসরায়েলের এফ-৩৫ বহরের আকার দ্বিগুণ হয়ে ১০০টিতে দাঁড়াবে।

লকহিড মার্টিনের একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের দাম প্রায় ৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর রিয়াদের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি নিয়ে এর আগেও কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছিল।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলে দেশটিকে এফ-৩৫ সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

সৌদি আরব যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে লড়াই করছে, তখনই এই বিক্রির প্রস্তাব সামনে এলো। ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা সম্প্রতি সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বিবিসির মার্কিন গণমাধ্যম সহযোগী সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এই পরিবর্তন কংগ্রেসের কিছু সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-৩৫ কিনতে সৌদি আরব বহু বছর ধরে চেষ্টা করে আসছে। এসব বিমানে এমন স্টেলথ প্রযুক্তি রয়েছে, যা শত্রুর শনাক্তকরণ এড়াতে সহায়তা করে।

যুক্তরাষ্ট্র এতদিন এ বিষয়ে অনাগ্রহী ছিল। এর একটি কারণ হলো, দেশটি তার মিত্র ইসরায়েলকে এফ-৩৫ সরবরাহ করে। মার্কিন আইনের অধীনে আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ইসরায়েলকে সর্বাধুনিক মার্কিন অস্ত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

রিয়াদের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলারের (১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড) এই বিক্রি খতিয়ে দেখা বা তা ঠেকানোর চেষ্টা করতে কংগ্রেসের হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বৃহস্পতিবার এই বিক্রির বিরোধিতা করেছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এর ফলে আমেরিকার সামরিক প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে।’

অন্যান্য ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং কয়েকজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের আশঙ্কা, দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারত্বের আওতায় রিয়াদ চীনের সঙ্গে এই সংবেদনশীল প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার চুক্তিটি ঘোষণা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য’ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

দপ্তরটি বলেছে, এই চুক্তি ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তি হিসেবে কাজ করা ন্যাটোর সদস্য নয়—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের নিরাপত্তা’ বাড়াবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, ‘এই সরঞ্জাম ও সহায়তা বিক্রির প্রস্তাব আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না।’

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে তিনি হোয়াইট হাউসে সফর করেছিলেন।

এর আগে গত বছরের মে মাসে রিয়াদে দুজনের বৈঠক হয়। সেখানে ১৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি সম্পন্ন হয়, যেটিকে হোয়াইট হাউস ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিক্রয় চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

সৌদি আরবের জন্য সর্বশেষ প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকবে। এসব যুদ্ধবিমান তৈরি করে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।

এর ফলে সৌদি আরবের কাছে থাকা এফ-৩৫ বিমানের সংখ্যা ইসরায়েলের বর্তমান বহরের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে। ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে ৫০টি এফ-৩৫ রয়েছে।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মে মাসে ঘোষণা করেছে, দেশটি আরও একটি এফ-৩৫ স্কোয়াড্রন কেনার পরিকল্পনা করছে।

জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ইসরায়েলের এফ-৩৫ বহরের আকার দ্বিগুণ হয়ে ১০০টিতে দাঁড়াবে।

লকহিড মার্টিনের একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের দাম প্রায় ৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর রিয়াদের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি নিয়ে এর আগেও কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছিল।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলে দেশটিকে এফ-৩৫ সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

সৌদি আরব যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে লড়াই করছে, তখনই এই বিক্রির প্রস্তাব সামনে এলো। ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা সম্প্রতি সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বিবিসির মার্কিন গণমাধ্যম সহযোগী সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। 

সূত্র: বিবিসি

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন