ইরানের ওপর বর্তমানে কী কী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২:০৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ওপর বর্তমানে কী কী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?

ইরানের তেহরানের একটি সড়কে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি সম্বলিত বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করছে।-ছবি: আল জাজিরা

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় কার্যকর করা হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২২৩১-এর আওতায় ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা সক্রিয় করার পর এসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক কর্মসূচির ওপর আগে আরোপ করা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ছয়টি রেজুলেশন পুনরায় কার্যকর হয়।

এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে—

অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: ইরানে ও ইরান থেকে প্রচলিত অস্ত্র সরবরাহ নিষিদ্ধ।

পারমাণবিক ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: এসব কর্মসূচিতে অবদান রাখতে পারে এমন উপকরণ, সরঞ্জাম, পণ্য ও প্রযুক্তি বিক্রি বা সরবরাহ নিষিদ্ধ।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ।

অর্থ ও বাণিজ্য: ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ।

নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা: নিষিদ্ধ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা।

যুক্তরাষ্ট্র

চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) বাস্তবায়ন করে।

এসবের মধ্যে রয়েছে—

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা: অধিকাংশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করে ব্যাপক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা।

সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা: ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য বা বাণিজ্যের অর্থায়নে যুক্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। এর মধ্যে শুধু জ্বালানি ও অর্থ খাত নয়, ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহনও রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

খাতভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের অর্থনীতির নির্দিষ্ট খাত, বিশেষ করে জ্বালানি ও নৌপরিবহন খাতকে লক্ষ্য করে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এসব খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।

মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা: মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর সদস্যদের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করাও রয়েছে।

সম্পদ জব্দ: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা ইরানের কোটি কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইরানের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞাগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

পারমাণবিক কর্মসূচি-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও প্রযুক্তি সরবরাহে বিধিনিষেধ।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ: ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য—যেগুলো সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা যায়—ইরানে রপ্তানিতে বিধিনিষেধ।

আর্থিক নিষেধাজ্ঞা: পারমাণবিক বিস্তার বা ‘সন্ত্রাসবাদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে বিবেচিত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ।

খাতভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের নৌপরিবহন, বিমান চলাচল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের মতো ধাতু খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: ইরানে অস্ত্র ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশ বিক্রি বা সরবরাহ নিষিদ্ধ।

যুক্তরাজ্য

ইরানের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা মূলত জাতিসংঘ ও ইইউর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এর মধ্যে রয়েছে—

পারমাণবিক কর্মসূচি-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা: পারমাণবিক বিস্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও প্রযুক্তি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের তেল ও গ্যাসজাত পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং বিশেষ করে পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবা ইরানে রপ্তানিতে বিধিনিষেধ।

আর্থিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বা ‘সন্ত্রাসবাদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ইরানি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সেবা দেওয়া নিষিদ্ধ।

খাতভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা: নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ‘সংবেদনশীল’ পণ্য—যেমন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য—বাণিজ্যে বিধিনিষেধ।

মানবাধিকার: সহিংস দমন-পীড়ন ও সেন্সরশিপের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, যার মধ্যে সম্পদ জব্দ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: ইরানে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বা সরবরাহ নিষিদ্ধ।

অন্যান্য দেশ

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডও ওপরের অনেক নিষেধাজ্ঞার নিজস্ব সংস্করণ বাস্তবায়ন করেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি। 

সূত্র: আল জাজিরা

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন