আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:৪৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অপরাধের কয়েক দিন পর কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।-ছবি: এনডিটিভি
দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে চারজন—যাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক—ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং পরে তার মরদেহ একটি খোলা মাঠে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সেখানে মরদেহের কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণ ও হত্যার কয়েক দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে ভয়াবহ ঘটনাটি সামনে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে শুরুতে সেটি নারী না পুরুষের, তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরী ও অভিযুক্তরা পরস্পরের পরিচিত ছিল। ঘটনার সময় একটি টেম্পোতে তাদের সঙ্গে যাতায়াত করছিল সে। অভিযোগ, টেম্পোর ভেতরে তারা একসঙ্গে মদ্যপান করে। এরপর কিশোরীকে যৌন নির্যাতন, ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপ নগর এলাকার কুশাক রোডে জয়পাল রানার মাঠের কাছে কিশোরীর পচে যাওয়া মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের কিছু অংশ পথকুকুরে খেয়ে ফেলেছিল। তার একটি হাতও মরদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ
কিশোরী নিখোঁজ—এমন কোনো অভিযোগ তার পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার তাদের বলেছে, ওই কিশোরী প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েক দিন পর ফিরে আসত।
ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ও পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় এবং শুরুতে অভিযুক্তদের পরিচয় জানা না থাকায় পুলিশ ওই এলাকা ও আশপাশের সড়কগুলোর ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।
ফুটেজ বিশ্লেষণের সময় ঘটনার সম্ভাব্য সময়ে ঘটনাস্থলের কাছে একটি টেম্পো চলাচল করতে দেখা যায়। অন্ধকারের কারণে এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। পরে তদন্তকারীরা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে টেম্পোটির গতিবিধি অনুসরণ করেন।
১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে রাতভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন টেম্পোটির সন্ধান পাওয়া যায়। এর চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এরপর তদন্তে এই অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচু। তিনি খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। তিন অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর।
অভিযুক্তরা অপরাধে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা দুটি ছুরি, তাদের পরা পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করতে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
ব্রেকিং