’যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:১৯, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২২, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

’যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম’

সাভারে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) জানান, কোনো পাগল বা ভবঘুরে ব্যক্তিকে অনৈতিক যৌন আচরণে জড়িত দেখলেই তিনি তাদের হত্যা করতেন। হত্যাকে তিনি নিজের ভাষায় ‘থার্টি ফোর’ কিংবা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ বলে আখ্যা দিতেন।

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ না থাকলেও তিনি পাগল নন। অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের ফলে তার আচরণে মানসিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে মানুষ হত্যা তার কাছে নেশায় পরিণত হয়।

পুলিশ জানায়, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়। আত্মগোপনের জন্য তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার স্থায়ী ঠিকানা সাভারে নয় বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্য কোনো এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর তিনি সাভারে এসে ভবঘুরে জীবন বেছে নেন। তার আসল পরিচয় উদঘাটনে কাজ চলছে।

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, সাভারে অবস্থানকালে ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটাতেন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন। পরে সেখানেই নিচতলায় স্থায়ীভাবে অবস্থান শুরু করেন। পরবর্তী পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে একে একে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ কারণে পুলিশ সেখানে নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে আসছিল।

পুলিশ জানায়, সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকায় সম্রাটকে তখন আটক করা সম্ভব হয়নি, যদিও তিনি সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে পুলিশ কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে তার বিছানায় এক কিশোরীকে শুয়ে থাকতে দেখে। সম্রাট তখন কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী নিজেকে তার বোন বলে পরিচয় দেন এবং জানান, তিন দিন আগে সেখানে এসেছেন।

পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ আরও একজনকে হত্যা করে তাদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। রোববার দুপুরের পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে সম্রাটের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তিনি ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় সম্রাটকে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও গভীর রাতে তিনি ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী সেতুর এলাকায় অবস্থান করতেন। রাতে সেতুতে ঘুমানো ভবঘুরে নারী-পুরুষদের ফুসলিয়ে তিনি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসতেন। যারা তার প্রস্তাবে সাড়া দিতেন, তারাই হত্যার শিকার হতেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে এবং হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বর্তমানে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, এই ছয়টি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও অভিযুক্তের সঙ্গে আরও কোনো অপরাধের যোগসূত্র থাকতে পারে—বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
 

আরও পড়ুন