প্রকাশ: ১১:৫৩, ২২ এপ্রিল ২০২৬
রাজনৈতিক অধিকারকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানুষের অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী আয়েশা সোনিয়া। তিনি বলেন, এসব অধিকার মানুষের মর্যাদা ও সত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং তা রাষ্ট্র সহজে হরণ করতে পারে না।
তার মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো—বিশেষ করে Universal Declaration of Human Rights এবং International Covenant on Civil and Political Rights—রাজনৈতিক অধিকারকে মৌলিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব নথিতে ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংগঠন গঠন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে উল্লেখ রয়েছে।
রাজনৈতিক অধিকারের মূল উপাদান
আইনজীবী আয়েশা সোনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে—
ভোটদান ও অবাধ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার
রাজনৈতিক সংগঠন গঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
তবে তিনি উল্লেখ করেন, এসব অধিকার অবিচ্ছেদ্য হলেও সম্পূর্ণ সীমাহীন নয়; রাষ্ট্র জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইন দ্বারা “যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ” আরোপ করতে পারে।
সংবিধানের দৃষ্টিতে বিষয়টি
বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে তিনি বলেন, অনুচ্ছেদ ৩৮-এ সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হলেও প্রয়োজনে আইন দ্বারা সীমাবদ্ধতা আরোপের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে অনুচ্ছেদ ৩৯ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে তা নিয়ন্ত্রণের বিধান রেখেছে।
এছাড়া অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১-এ আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কোনো রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করতে হলে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে হতে হবে।
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের প্রশ্নে
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি একটি গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং এটি সাধারণত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক পর্যালোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালতের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিচার বিভাগ নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে।
তার মতে, যদি কোনো সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সহিংসতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকে, তাহলে বিদ্যমান আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি বিতর্কের অবকাশ
আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রশ্নে তিনি মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড, সংবিধানের বিধান এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ভিন্নমত ও আইনি বিতর্ক থাকার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লেখক:
আয়েশা সোনিয়া,
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট
ব্রেকিং