বেরিয়ে আসছে ইউনূস সরকারের দুর্নীতির অভিযোগের চিত্র

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩:৩৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেরিয়ে আসছে ইউনূস সরকারের দুর্নীতির অভিযোগের চিত্র

ইউনূস সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়-ছবি: সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অর্থপাচারসংক্রান্ত অভিযোগগুলো বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের পর বিভিন্ন অভিযোগ পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের খবর প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয় রয়েছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিদেশে পাচার করা অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে জমি, সম্পদ ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।

লেখাটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইউনূস সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং সম্পদ অর্জনের বিভিন্ন তথ্যের উল্লেখ রয়েছে।

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোতে বিচারক, আইন কর্মকর্তা ও সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ-বদলি এবং জামিন ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে সম্পদ কেনার অভিযোগও করা হয়েছে।

সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীর মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ ও ব্যবসায় অর্থ স্থানান্তরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করার বিষয়।

উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রে তার নিকটাত্মীয়ের নামে সম্পদ কেনার অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখাটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অনুসন্ধান বা তদন্তের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ২০২৫ সালে এক বছরে প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ; ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়েছে।

তবে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যানকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের অর্থপাচারের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। ব্যাংকগুলোর এসব আমানতের উৎস ও বৈধতা আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয়।

লেখাটিতে বলা হয়েছে, দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে যেগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। একই সঙ্গে ইউনূস সরকারের সময়কার বিভিন্ন দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন