চাঁনখারপুলের মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:২০, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁনখারপুলের মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চাঁনখারপুলের মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার।-ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকার একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার সহপাঠীরা।

মৃত শিক্ষার্থীর নাম অনিক চন্দ্র পাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়। বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁনখারপুলের পি কে গাঙ্গুলি লেইনের একটি ভবনের চতুর্থ তলার মেস থেকে অনিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিমাত্রিক ও নকশা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল।

তিনি জানান, মেসের একটি কক্ষে ফ্যান ঝোলানোর রডের সঙ্গে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় অনিককে ঝুলতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুবাস পাল বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালে যান এবং অনিকের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। পরিবারের সদস্যরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অনিকের বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পায়েল দাস জানান, অনিক স্বভাবগতভাবে কিছুটা চুপচাপ ছিলেন। তিনি অনেক সময় হেডফোন কানে দিয়ে নিজের কক্ষে দীর্ঘ সময় থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে তার মেসমেটরা দরজায় নক করেও কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি তারা তখন স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। ওই কক্ষে থাকা অনিকের রুমমেটও সে সময় ভারতে অবস্থান করছিলেন।

পরে রাতে অনিকের বান্ধবী ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে মেসের অন্যদের বিষয়টি জানান। এরপর মেসমেটরা তার কক্ষে গিয়ে দীর্ঘ সময় দরজায় নক করলেও কোনো সাড়া পাননি। একপর্যায়ে জানালা ভেঙে তারা কক্ষের ভেতরে অনিককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় পৌঁছানোর পর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন