ডাকসু সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সর্বমিত্র চাকমা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:১৩, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ডাকসু সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সর্বমিত্র চাকমা

সর্বমিত্র চাকমা-ছবি: সংগ্রহীত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-এ তিনি তার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের কান ধরে ওঠা-বস করানোর দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সর্বমিত্র এই স্ট্যাটাস দেন। তার পোস্টের শিরোনাম ছিল—‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’।

স্ট্যাটাসে সর্বমিত্র চাকমা উল্লেখ করেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এতে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও লেখেন, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঠ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার কিংবা বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ—কোনো উদ্যোগই দৃশ্যমান হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে সর্বমিত্র অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করে এবং নিষেধ করা হলে অনেক সময় স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বেড়েছে।

ওই ঘটনার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তিনি ওই আচরণে বাধ্য হন। তবে এটি তার কাম্য ছিল না বলেও স্বীকার করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কাউকে এভাবে শাস্তি দেওয়া তার উচিত হয়নি এবং এ ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে সর্বমিত্র চাকমা ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং কারও প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নেওয়া নয়। শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, তা পূরণ করতে না পারার দায় নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন