প্রকাশ: ১১:৩১, ১৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৩, ১৩ মে ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১৬ জন কর্মকর্তার সম্পদ যাচাই শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তারা কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ১৬ কর্মকর্তা তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন। এখন এসব তথ্য তাদের আয়কর নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আয়করে উল্লেখ নেই—এমন কোনো সম্পদ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনের সম্পদের তথ্যও চাওয়া হতে পারে। অনুসন্ধান চলাকালে অন্যদের বিরুদ্ধেও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
দুদক আরও জানিয়েছে, লোকমান আহমেদ নামের আরেক কর্মকর্তাকে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর জরিপ ও পরিদর্শন) এম এম ফজলুল হক, সদস্য (কর লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) এ কে এম বদিউল আলম এবং কাস্টমস ও ভ্যাটের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়ার সম্পদ যাচাই করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল।
সদস্য (আন্তর্জাতিক কর) মো. লুৎফুল আজীমের সম্পদ যাচাই করছেন উপপরিচালক মো. ইয়াসির আরাফাত।
সাবেক সদস্য (কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন) মো. আলমগীর হোসেনের সম্পদ যাচাই করবেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।
যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান ও উপকর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলামের সম্পদ যাচাই করছেন সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানার সম্পদ যাচাই করছেন উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ।
অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা এবং উপকর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতার সম্পদ যাচাই করছেন উপসহকারী পরিচালক মিনু আক্তার সুমি।
কাস্টমস ও ভ্যাটের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার এবং অতিরিক্ত কমিশনার মো. মামুন মিয়ার সম্পদ যাচাই করছেন সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম।
কাস্টমস ও ভ্যাটের অতিরিক্ত কমিশনার (বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সাধন কুমার কুণ্ডুর সম্পদ যাচাই করছেন সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।
কাস্টমস ও ভ্যাটের যুগ্ম কমিশনার তারেক হাসানের সম্পদ যাচাই করছেন উপপরিচালক মো. আল আমিন।
কাস্টমস কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিনের সম্পদ যাচাই করছেন সহকারী পরিচালক নাসরুল্লাহ হোসাইন।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য (টেকনিক্যাল) মো. কামরুজ্জামানের সম্পদ যাচাই করছেন সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ।
গত মঙ্গলবার এনবিআরের সদস্য (কর লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) এ কে এম বদিউল আলমের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, বদিউলের বিরুদ্ধে তার নিজস্ব স্বাক্ষরে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন তথ্য অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া গেছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন।
এর আগের দিন সোমবার সাবেক সদস্য এম এম ফজলুল হক এবং অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়ার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের পৃথক আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তারা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের ঘোষণার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের শেষ দিকে দুদক এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা দেয়।
ব্রেকিং