আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ : স্বাধীনতার পথে বাঙালির দিকনির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৪৬, ৭ মার্চ ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ : স্বাধীনতার পথে বাঙালির দিকনির্দেশনা

১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন - ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) লাখো মানুষের সমাবেশে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেন। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল প্রেরণায় পরিণত হয়।

সেদিন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে ভাষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, “ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।” মাত্র ১৯ মিনিটের এই ভাষণে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানান। এর মধ্যে ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, হত্যাকাণ্ড ও গুলি বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন।

ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই।” তিনি আরও ঘোষণা দেন, কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং জনগণকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের শেষাংশে উচ্চারিত দুটি বাক্য বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল স্লোগানে পরিণত হয়। তিনি বলেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

এই ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে। পরে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ শুধু রাজনৈতিক দলিল নয়; এটি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা এবং জাতীয় চেতনার অন্যতম ভিত্তি।

ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আজ বিকেল ৪টায় তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন