বাংলাদেশসহ চার দেশের শিক্ষার্থীর ভিসা কঠোর করল অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮:২৬, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশসহ চার দেশের শিক্ষার্থীর ভিসা কঠোর করল অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া আরও কড়াকড়ি করেছে অস্ট্রেলিয়া। ‘স্বচ্ছতা ও ইন্টিগ্রিটি–সংক্রান্ত ঝুঁকি’র কথা উল্লেখ করে এই চার দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম এইউ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছিল বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে। এই বাস্তবতার মধ্যেই দেশগুলোকে হঠাৎ করে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. আবুল রিজভি বলেন, ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়’ বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে এভিডেন্স লেভেল–২ (EL2) থেকে উন্নীত করে এভিডেন্স লেভেল–৩ (EL3)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এভিডেন্স লেভেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো উদীয়মান ইন্টিগ্রিটি সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা।

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে প্রকৃত ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। অস্ট্রেলিয়ান সরকার চায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থানকালে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করুক এবং উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করুক।

ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত ও স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী নীতিমালা থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ার সিম্প্লিফায়েড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এভিডেন্স লেভেল নির্ধারণ করা হয়। এসব সূচকের মধ্যে রয়েছে—ভিসা জালিয়াতি বা প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের পরিসংখ্যান, অবৈধভাবে অবস্থানের প্রবণতা এবং পরবর্তীতে শরণার্থী আবেদন করার হার।

বাংলাদেশসহ চার দেশের জন্য নতুন EL3 মর্যাদা কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষাগত পটভূমি ও ব্যক্তিগত তথ্য সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত ও কঠোর নথিপত্র জমা দিতে হবে। ফলে আগের তুলনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন