হাসিনাকে ফেরানোর গোপন উদ্যোগে খুবির শিক্ষকরা? তদন্তে কমিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:১২, ১২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৫, ১২ আগস্ট ২০২৬

হাসিনাকে ফেরানোর গোপন উদ্যোগে খুবির শিক্ষকরা? তদন্তে কমিটি

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথিত গোপন তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কোনো শিক্ষক জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সূত্রে সম্প্রতি এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যে, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার একটি গোপন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি সামনে আসার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত কি না, তা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালককে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিক্ষা স্কুলের ডিন, আইন স্কুলের ডিন এবং সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, কমিটিকে এক মাসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্তের আওতায় থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো শিক্ষকের সম্পৃক্ততা, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কথিত গোপন উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করার অভিযোগ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন জানিয়েছেন, তিনি কমিটি গঠনের চিঠি পেয়েছেন। এখনো কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। সভাপতি সভা আহ্বান করবেন এবং শিগগিরই কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসবেন।

এর আগে একই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও তদন্ত কমিটি গঠনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

তদন্ত শেষ হওয়ার পর কমিটির প্রতিবেদনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এসব অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসতে পারে। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন